করোনার প্রভাব

ভরা মৌসুমেও সিলেট পর্যটকশূন্য

করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটেও। পর্যটনের এ ভরা মৌসুমেও সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলো প্রায় শূন্য।  বিদেশি পর্যটক তো নেই-ই, দেশীয় পর্যটকও হাতেগোনা। করোনা আতঙ্কে এরই মধ্যে অনেক বিদেশি পর্যটক হোটেল বুক করেও সিলেটে আসার পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন। এছাড়া রমজানের পূর্বে সাধারণত অনেক প্রবাসী দেশে আসেন তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে অনেকেই দেশে আসতে পারছেন না। তাই প্রবাসীদের স্বজনরা তাদের জন্য বেশ উদ্বিগ্ন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট চন্দন সাহা জানান, সব ব্যবসায় করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ছে। সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলো অনেকটা পর্যটকশূন্য। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসায়ীরা বড়ো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআইর পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর এ মৌসুমে সিলেটের পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় লাগে পর্যটকদের। হোটেল-মোটেলগুলোও থাকে বুকড। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলোর ৮০ ভাগই থাকত পর্যটকে ভর্তি। করোনা ভাইরাসের কারণে সিলেটের প্রায় ৩ শতাধিক ছোটো-বড়ো হোটেল-মোটেল এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) মাজারে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। 

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা জানান, বছরে ৫ থেকে ৬ লাখ বিদেশি পর্যটক আসেন বাংলাদেশে। যার বড়ো একটি অংশ আসেন চীন থেকে। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের আসা এখন বন্ধ। গত দুই সপ্তাহ থেকে সিলেটে প্রবাসীদের আসা-যাওয়াও কমে গেছে। ১৫ দিন আগেই অনেক হোটেল-মোটেল বুকড হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক শতভাগ বুকিংই বাতিল হয়ে গেছে।

সিলেটের ফাইভ স্টার হোটেল রোজ ভিউর মালিক আহাদ উদ্দিন বলেন, গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে বিদেশি পর্যটক এক জনও নেই তাদের হোটেলে। ১ এপ্রিল থেকে বিমানের সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইটে তাদের ফুড কন্ট্রাক্ট ছিল। এখন সেটাও অনিশ্চয়তায় পড়ার উপক্রম হয়েছে।