বিশ্ব গ্লকোমা দিবসে বিশেষজ্ঞরা

দেশে গ্লকোমা রোগী ২৫ লাখের বেশি

গ্লকোমায় হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি আর ফিরে আসে না। তাই সময় মতো গ্লকোমা সনাক্ত হওয়া জরুরী। দেশে গ্লকোমায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ২৫ লাখ। আর চল্লিশোর্ধ মানুষের মধ্যে শতকরা ৩ জন এই গ্লকোমা রোগে আক্রান্ত। ফলে চল্লিশোর্ধ্ব সব মানুষের নিয়মিত গ্লকোমা পরীক্ষা করা জরুরী বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দ্রুত গ্লকোমা সনাক্ত হলে নিরব অন্ধত্ব সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে শোভাযাত্রা ও মতবিনিময় সভায় চক্ষু বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্লকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে ৮ থেকে ১৪ মার্চ দেশের জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটি এই অনুষ্ঠানের              আয়োজন করে। এর আগে সকালে গ্লকোমা সোসাইটির উদ্যোগে বিনামূল্যে  স্ক্রিনিং ক্যাম্প ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ চক্ষু চিকিত্সক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো: শারফুদ্দীন আহমেদ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

বক্তারা বলেন, শিশু থেকে বয়স্ক যে কারো গ্লকোমা রোগ হতে পারে। পারিবারের কারো গ্লকোমার ইতিহাস থাকলে, এছাড়াও চোখে আঘাতজনিত কারণে, অতিরিক্ত মাইনাস বা অতিরিক্ত প্লাস পাওয়ার যাদের, তারাও এই রোগের ঝুঁকিতে আছেন। ডায়বেটিসের কারণেও গ্লকোমা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ। এতে চোখের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। একসময় রোগী স্থায়ী অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হয়। এটা চোখের স্নায়ুর প্রেসার। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ থেকে ২০। তবে ২১ বা তার বেশি চোখের প্রেসার থাকলে সেটা আশঙ্কাজনক।

বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সালমা পারভীন গ্লকোমা নিয়ে উপস্থাপনায় বলেন, অধিকাংশ রোগী এ রোগের লক্ষণ বুঝতে পারে না। চশমা পরিবর্তনের সময় বা নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চিকিত্সকরা গ্লকোমা নির্ণয় করে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন— ঘন ঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, বেশি আলোতে চোখে ব্যথা ও পানি আসা, জন্মের পর বাচ্চাদের কর্ণিয়া ক্রমাগত বড় হয়ে যাওয়া বা সাদা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৮ কোটি মানুষ গ্লকোমায় আক্রান্ত। যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ জানে না যে তার গ্লকোমা আছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ১২ কোটি মানুষ গ্লকোমায় আক্রান্ত হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সাধারণত ওষুধ, লেজার ও শৈল্য এই তিন পদ্ধতিতে বাংলাদেশে গ্লকোমার চিকিত্সা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্লকোমা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বিরাট জনগোষ্ঠী অপরিবর্তনযোগ্য অন্ধত্বের শিকার হন যা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে পারলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এ রোগ নিরাময়যোগ্য নয় বলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে যথাযময়ে রোগ চিহ্নিত হলে সঠিক চিকিত্সায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলাম জানান, দেশে ৩৫ বছরের উপরে ২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের গ্লকোমা আছে। সে হিসেবে ৩৫ লাখেরও অধিক মানুষ গ্লকোমা রোগে আক্রান্ত।

গ্লকোমা সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যউপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। আরো বক্তব্য রাখেন, গ্লকোমা সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. শেখ এম এ মান্নাফ, অভিনেতা জাহিদ হাসান। অনুষ্ঠানে গ্লকোমা রোগের চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন কয়েকজন রোগী তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।