আশুগঞ্জ-ভৈরব রুটে চাই মিনিবাস

আশুগঞ্জ আর ভৈরবের অবস্থান পাশাপাশি। মাঝে মেঘনা নদী। আশুগঞ্জ প্রশাসনিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার একটি উপজেলা। বিভিন্ন প্রয়োজনে আশুগঞ্জবাসীকে নদী পেরিয়ে ভৈরবে যেতে হয়। আবার সরাসরি বাস না থাকায় কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ইত্যাদি জেলায় কারো যাওয়ার প্রয়োজন হলে, তাকে প্রথমে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে (দুর্জয় মোড়) যেতে হয়। আশুগঞ্জ থেকে ভৈরবে যাওয়ার জন্যে সড়ক, নৌ ও রেলপথ রয়েছে। সঙ্গত কারণেই এত কাছের দূরত্বে যাওয়ার জন্যে রেলপথ সুবিধাজনক নয়। আবার নৌপথে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে হলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সড়কপথে আশুগঞ্জ থেকে ভৈরবে যাওয়া-আসা করার জন্যে মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু রয়েছে। আগে এ সেতুর ওপর দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে বিআরটিসির দোতলা বাস। সড়কপথে আশুগঞ্জ-ভৈরব যাতায়াতে এই দোতলা বাস ছাড়া আর গণপরিবহন নেই। তারপর পুরোপুরি বোঝাই না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলো ছাড়ে না। ফলে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আগে বাসের ভাড়া ছিল পনেরো টাকা। পনেরো মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যাবে এই অজুহাতে বছরখানেক আগে বাসের ভাড়া বিশ টাকা করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো—ভাড়াটাই শুধু বেড়েছে, সার্ভিস আগের মতোই রয়ে গিয়েছে।  আবার দূরপাল­ার কোনো বাসে লোকজন উঠতে দেখলেই বিআরটিসি বাসের হেলপাররা ঝগড়া বাধিয়ে দেয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় সাধারণ মানুষ বিআরটিসি বাসের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায়, আশুগঞ্জ-ভৈরব রুটে মিনিবাস চালু করলে জনগণের দুর্দশা অনেকটা লাঘব হতো। কমে যেত ভ্রমণের সময়। বিআরটিসিসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।

মো. ইকবাল কবির

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লি. (এপিএসসিএল),

আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া