পটুয়াখালীতে ৫০ শয্যা কোয়ারেন্টাইন ইউনিটসহ ব্যাপক প্রস্তুতি

চার জন চীনা নাগরিক বিশেষ পর্যবেক্ষণে ** জেলায় রেপিড রেসপন্স টিম গঠন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পটুয়াখালী স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা সদরে ৫০ শয্যার একটি কোয়ারেন্টাইন ইউনিটসহ জেলায় ১০০ আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পায়রা তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র ধানখালী এলাকায় চার জন চীনা নাগরিককে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জেলায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে কর্মরত চীনা নাগরিকদের মনিটরিং করার জন্য গঠন করা হয়েছে ৯ সদস্যের রেপিড রেসপন্স টিম।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও আক্রান্তদের সুচিকিত্সা নিশ্চিতে জেলা সদরে নবনির্মিত জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের চার তলা ভবনকে ৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন ইউনিট হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঁচ শয্যার করোনা ভাইরাস আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, জেলা ও উপজেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি ১৫ শয্যার একটি শয্যা সম্ভাব্য করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক বরাবরে সিভিল সার্জন দপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পায়রা তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র ধানখালী এলাকায় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির একটি ভবনে এক শয্যাবিশিষ্ট ২০টি কক্ষে ও নরিকো ইনটেল পাওয়ার লিমিটেডে একটি কক্ষে চার শয্যাবিশিষ্ট কোয়ারেন্টাইন ইউনিট এবং পটুয়াখালীতে অপর একটি প্রকল্পে দুই শয্যার একটি কক্ষ কোয়ারেন্টাইন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ধানখালীতে পায়রা তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সম্প্রতি চীন থেকে প্রত্যাগত চার জন চীনা নাগরিককে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোয়ারেন্টাইন ইউনিটে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র ও দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে পায়রা ব্রিজে কর্মরত চীনা নাগরিকদের যথাযথ মনিটরিং করার জন্য সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি করোনা ভাইরাস রেপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া এলাকায় সিঙ্গাপুর থেকে ফেরা মো. জসীম তালুকদার (৩০) নামে এক জনকে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঐ এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী এস এম শহীদুল ইসলাম। সিভিল সার্জন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কোয়ারেন্টাইন ইউনিট। তাছাড়া এই জেলায় যেহেতু কয়েকটি মেগা প্রকল্পে চীনা নাগরিকরা কর্মরত আছেন সেজন্য রেপিড রেসপন্স টিম তদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।