শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের নড়িয়ার গ্রামে ২০ বছর বয়সি এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে শনিবার রাত ও রবিবার সকালে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে স্নাতক শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে। এদিকে লজ্জা ও অপমানে ঐ রাতেই সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো শৃঙ্খল মোল্যা (২৫), হূদয় সরদার (২৪), আরিফ সরদার (২২) ও মুরাদ মোল্যা। তাদের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। অপরদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার সকালে শরীয়তপুর জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী। নড়িয়া থানা ও তরুণীর পরিবার সূত্র জানা গেছে, ঘটনার দিন ঐ তরুণী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি কাজে জেলা শহরে যায়। বাড়ি ফেরার পথে তাদের পাশের গ্রামের শৃঙ্খল মোল্যা ও হূদয় সরদার নির্জন স্থানে তার গতিরোধ করে। এরপর রাস্তার পাশের একটি মাছের খামারের বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ কাজে আরিফ ও মুরাদ সহায়তা করে। ধর্ষণের পর অচেতন অবস্থায় ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় তিন যুবক তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। সে বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। ধর্ষণের শিকার ঐ তরুণী জানায়, ‘এখন প্রতি মুহূর্তে তাকে ধর্ষণের যন্ত্রণা নিয়ে চলতে হবে। কী লাভ হবে এ জীবন রেখে। তাই আর বাঁচতে চান না।’ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, ঐ তরুণীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। সে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। তার চিকিত্সা চলছে। আপাতত শঙ্কামুক্ত। নড়িয়া থানার ওসি হাফিজ উদ্দিন বলেন, মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে তিন জনকে ঢাকা ও এক জনকে জাজিরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।