বিষাক্ত বর্জ্যে নন্দকুঁজায় মরে ভেসে উঠছে মাছ

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেসে উঠেছে নন্দকুঁজা নদীর নানা প্রজাতির মাছ। হুমকিতে পড়েছে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য। এদিকে মরে ভেসে ওঠা এসব মাছ ধরতে রবিবার থেকে গত মঙ্গলবার নদী এলাকায় মাছ ধরতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  চলে মাছ ধরার এ উত্সব।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক মোঃ রবিউল করিম বলেন, বিষাক্ত পানির এ মাছ খেলে  কিডনি, লিভার এবং ব্রেইনের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া  চুলকানিসহ নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে। নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মানুষ, জাল, ফাঁদ ও কুচ ও টেঁটাবিদ্ধ করে মাছ শিকার করতে। নারী, শিশু-কিশোর ও বয়স্ক ব্যক্তিরা মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কমপক্ষে ১৫ জন মাছ শিকারি জানান, খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। মাছের আকাল চলছে। এ কারণে মাছের দামও বেশি স্থানীয় বাজারে। কিন্তু নদীজুড়ে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় নানা প্রজাতির মাছ ভেসে উঠেছে। এসব মাছের মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বায়াম, গুঁচি, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। তবে  নদীর পানি শরীরে লাগায় চুলকানি শুরু হয়েছে। তারপরও মাছের লোভে নদীতে নামতে হচ্ছে।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবীর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাটোর শহরের মাঝদিয়ে প্রবাহিত নারদ নদে ফেলা কল-কারখানার বর্জ্য নন্দকুঁজা নদীতে ছড়িয়ে পড়ায় বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর থেকে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় ত্রিমোহনা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। বর্জ্যের কারণে নদীর পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় মাছ শক্তি হারিয়ে ভেসে ওঠে।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সকালে খবর পাওয়ার পর পরই সহকারী মত্স্য কর্মকর্তাকে নদীর অবস্থা দেখতে পাঠানো হয়েছে। পানিতে মিশে থাকা দূষিত পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।