স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় পৃথক সংস্থা স্থাপনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস এবং এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি সংস্থা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ প্রস্তাব দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা যেতে পারে। যদি সদস্য দেশগুলো রাজি থাকে তবে বাংলাদেশ এই সংস্থা স্থাপনে প্রস্তুত।’ বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের একে অপরকে সহায়তা করতে হবে এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘সমষ্টিগতভাবে আমাদের সক্ষমতা, বিশেষজ্ঞ মতামতসহ অন্যান্য বিষয়ে সবচেয়ে ভালো প্র্যাকটিসগুলো আদান প্রদান করা যেতে পারে।’ এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তথ্য আদান প্রদান করার জন্য তৈরি।

করোনা ইস্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব ধরনের বন্দর ব্যবহারে সতর্ক আছি। শুধু করোনা ভাইরাসের চিকিত্সার জন্য কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে আরেকটি হাসপাতাল আছে, যেখানে শুধু করোনা ভাইরাস রোগের চিকিত্সা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় হাসপাতালগুলোতে একটি ইউনিট রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কার্যকর ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মিলিতভাবে এ মহামারি মোকাবিলা করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এ মহামারি মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সহযোগিতা ও সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে। সমন্বয় করতে হবে আমাদের সম্মিলিত সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ। লজিস্টিক সাপোর্টসহ সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করতে আমরা প্রস্তুত বলে জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে বর্তমান বিশ্বে আমরা সবাই সবার সঙ্গে সংযুক্ত। তাই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আমাদের নিবিড়ভাবে সম্মিলিত হয়ে কাজ করতে হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে আরো যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবে রাজাপক্ষে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।