সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। তবে পুলিশের হাতে কমপক্ষে ৩৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
চলতি বছর রুটির ওপর ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে সুদানে রুটির মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর জেরে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বাধ্য হয়ে গত নভেম্বরে আটার ওপর ৪০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়ায় সরকার। সমপ্রতি সরকারের ভর্তুকির আটা ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত সপ্তাহে আতবারা শহরে ক্ষমতাসীন দলের সদর দফতরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করেও সেখানে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা।
গত কয়েক দিনে বিক্ষোভাকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্টের ওপর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। মঙ্গলবার খার্তুমে বিক্ষোভের ডাক দেয় সুদানের পেশাজীবীদের সংগঠন। তাতে সমর্থন জানায় দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল উম্মাহ পার্টি। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে তার পদত্যাগের আহ্বান সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিক্ষোভকারীরা। দেশাত্মবোধক গান ও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিতে দিতে প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও তাজা গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। তবে তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে তারা। বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও কার্ফু জারি রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রাখ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন বশির। পদত্যাগের বিষয়ে কোনও ঘোষণা না দিলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বশির। রুটির দাম বৃদ্ধি ঘিরে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ শুরুর পর সোমবার প্রথমবারের মতো ‘সত্যিকার সংস্কারের’ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সংস্কারের বিস্তারিত কিছু না জানালেও রাষ্ট্রীয় সুদান বার্তা সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকেরা উপযুক্ত জীবন যাপন করতে পারবে। তবে এর পাশাপাশি দেশের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির জন্য বিক্ষোভকারীদের দায়ী করে তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।