বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন মাঞ্জরেকার

স্পোর্টস ডেস্ক

বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে বাদ পড়া এই ক্রিকেট বিশ্লেষক বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে ‘পেশাদার’ দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে আছে গোটা বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন। ভারতীয় ক্রিকেটেও চলছে অচলাবস্থা। স্থগিত করা হয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগও (আইপিএল) ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব রকমের ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরও। এসবের মধ্যেই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে নিজেদের ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে বাদ দিয়েছে বিসিসিআই।

এই টুইটে তিনি এই ব্যাপারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। লিখেছেন, ‘আমি ধারাভাষ্যের কাজকে সবসময় একটা সম্মানজনক দায়িত্ব হিসেবে দেখে এসেছি। এর থেকে আমার বস্তুগত কোনো চাহিদা ছিল না। আমাকে রাখা হবে কি হবে না, এর পুরোটাই নির্ভর করে আমার চাকরিদাতার ওপর। আমি সবসময় তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। সম্ভবত আমার পারফরম্যান্সে বিসিসিআই সন্তুষ্ট হতে পারছে না। আমি তাদের এই সিদ্ধান্তকে পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ধর্মশালায় ভারতের প্রথম ওয়ানডেটি অবশ্য মাঠে গড়াবার কথা ছিল। তবে বৃষ্টিতে ভেসে যায় সেই ম্যাচ। সেই ম্যাচের জন্য ধারাভাষ্য প্যানেলের সুনীল গাভাস্কার, লক্ষ্মণ শিবারামকৃষ্ণান, মুরালি কার্তিকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। কারণ হিসেবে গণমাধ্যম বলেছে, সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের কাজে সন্তুষ্ট নয় বিসিসিআই।

মাঞ্জরেকার আগামী গেল তিনটি বিশ্বকাপসহ আইসিসির সবগুলো ইভেন্টে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। তবে, এখন বিসিসিআইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। ১৯৯৬ সালে ক্রিকেট ছাড়া মাঞ্জরেকারকে তাই আইপিএলেও না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

তবে বিসিসিআইয়ের দায়িত্বশীল ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাকে মনে হয় আইপিএলের ধারাভাষ্য প্যানেল থেকেও বাদ দেওয়া হবে। এখন এটা আমাদের চিন্তার বিষয় না। তবে ব্যাপার হলো তার কাজে বিসিসিআই সন্তুষ্ট না।’

সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একজন হলেন ভারতের হয়ে ৩৭ টেস্ট ও ৭৪ ওয়ানডে খেলা ৫৪ বছর বয়সি সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। পাঁচটি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির মালিক দুই ফরম্যাট মিলে রান করেছেন ৪ হাজার ৩৭।

তবে ধারাভাষ্যে বসে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটা স্পর্শকাতর মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে অলরাউন্ডার রবীন্দ  জাদেজাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছিলেন। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোলাপি বলের দিবারাত্রির টেস্ট চলাকালীন সহকর্মী হার্শা ভোগলেকেও আক্রমণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এসব ঘটনার ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করলেও তাতে বিসিসিআইয়ের মন গলেনি।