আইওসির জরুরি বৈঠক আজ
স্পোর্টস ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াঙ্গন যখন একরকম থমকেই আছে, তখন জোরে সোরেই টোকিও অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আয়োজক দেশ জাপান। তবে, কালো মেঘের ছায়া পড়েছে ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো এই আসরের ওপরও। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) আজ এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে। আর এই বৈঠকে অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা আছে।
গোটা বিশ্বে ক্রিকেট-ফুটবলসহ শীর্ষ অনেক খেলার আসরই এরই মধ্যে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। তবে, শুক্রবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মহামারি হলেও নির্ধারিত সূচি মেনেই আসন্ন জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত হবে টোকিও অলিম্পিক।
আর টোকিওতেও করোনার প্রভাব যথেষ্ঠ লক্ষণীয়। এই পরিস্থিতিতে জাপানের স্থানীয়রাও দাবি জানাচ্ছেন, অলিম্পিক বাতিল করার। তাদের দাবি, অলিম্পিক আয়োজিত হলে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, প্রশাসনের পক্ষে এত মানুষের দিকে নজরদারি করা সম্ভব নয়। টোকিওর এক ব্যবসায়ী এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকদের সেটা ভাবা উচিত্।’
যদিও, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকেই জাপানের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পরিস্থিতি যখন এমন ঘোলাটে তখন আইওসির ওপর চাপ বাড়ছিল। এমন অবস্থায় আইসিসি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে টেলিযোগাযোগে জরুরি এক বৈঠক ডেকেছে আজ মঙ্গলবার।
আইওসির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘সদস্য দেশগুলোর অলিম্পিক সংস্থাকে সব সময়েই সামপ্রতিক পরিস্থিতি ও তার সমস্যা-সমাধান নিয়ে অবহিত করে থাকে। মঙ্গলবারের আলোচনা তারই অংশ।’
আইওসির প্রধান থমাস ব্যাচ জানিয়েছেন, টোকিও অলিম্পিক বাতিল করতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিনিষেধ খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই অলিম্পিকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে আইওসি। তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের জন্য যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আপাতত স্থগিত রয়েছে, তার জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারের টেলি-আলোচনায় এই ব্যাপারটি নিয়েও কথা হবে।’