স্পোর্টস ডেস্ক
কিছুটা দেরিতে হলেও লা লিগা শেষ করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী লা লিগা কর্তৃপক্ষ। স্পেনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল লিগটির সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস জানালেন, পরিবর্তিত সূচি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা। করোনা ভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে দুটো ম্যাচদিবস স্থগিত হয়েছে ইউরোপীয় লিগগুলোয়। স্থগিতাদেশ আপাতত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত হলেও সেটা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার ওপর। তাই সহসাই ইউরোপীয় সব লিগ মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তবে লিগ যখনই মাঠে ফিরুক, লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস ২০১৯-২০ মৌসুম শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী। আজ মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে জরুরি সভায় বসার কথা উয়েফার, যেখানে ২০২০ ইউরো স্থগিত হবে কি না সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা খুবই বেশি। যদি সেটা হয় এবং বৈশ্বিক মহামারি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তবে মৌসুম শেষ করার জন্য আসছে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশাল এক সময় পাবে ইউরোপীয় লিগগুলো।
আপাতত তাই মৌসুমটাকে অসম্পূর্ণ রেখে দিলে কী অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে তা নিয়েই ভাবছেন তেবাস, ‘আমরা অন্য ভাইরাসটা নিয়ে কাজ করছি যেটা বিশ্বজুড়ে আমাদের চুক্তিগুলোয় আক্রমণ করেছে। বিশ্বের ১০০টা অপারেটরের সঙ্গে আমাদের ১০০টা ভিন্ন ভিন্ন চুক্তি আছে আমাদের। আর যদি শেষমেশ খেলা নাই হয় তবে কোনো সম্প্র্রচার হবে না; তাহলে আমাদেরও কোনো আয় হবে না।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘যে অর্থনৈতিক ধাক্কাটা আসবে সেটাকে কিছুটা নমনীয় করার জন্যে সূচিটাকে আবারও সাজানো যায় কি না সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি। এটা শুধু ইউরোপের ছোটো ক্লাব নয়, বড়োদের জন্যেও কঠিন। তারা ইউরোপে খেলে এবং অনেক অর্থ উপার্জন করে। যদি প্রতিযোগিতাগুলো স্থগিত হয়ে যায়, সবকিছু ঢেলে সাজাতে হবে এবং যার ফলে উপার্জনটাও কমে যায়।’
আজ মঙ্গলবার উয়েফার সভায় স্থগিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে ২০২০ ইউরোর। সেটা হয়ে গেলে আগামী জুন-জুলাই মাসে বাড়তি সময়ে লিগ শেষ করতে চায় লা লিগা, ‘সব দলের বাজেটও কমে যাবে যদি মৌসুমটা শেষ না হয় কিন্তু লিগ শেষ করার ব্যাপারে আমি প্রত্যয়ী। এখন ইউরো বাতিল হলে কী করে আমরা মৌসুম শেষ করব সেটাই দেখার বিষয়। যদি বাতিল না হয় তাহলে আমরা বড়ো সমস্যাতেই পড়তে যাচ্ছি।’
পরিবর্তিত সময়ে লিগ শেষ করার ব্যাপারে জার্মানি ও ইতালির সঙ্গেও আলাপ করেছেন তেবাস। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেই প্রাধান্য দিচ্ছি আমরা। কিন্তু পরিচালকদের অর্থনৈতিক ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমি ইতালি ও জার্মানির সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আপাতত আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে মঙ্গলবার উয়েফার সভায় ইউরোর ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হয় সেটার অপেক্ষা করা, তারপর নিজেদের সিদ্ধান্তটা নেওয়া।’