ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি পেশের প্রতিবাদে উপজেলার প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষগণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শুক্রবার গৌরীপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ২১ জন প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনামুল হক সরকার।
এতে বলা হয়, ৭ নভেম্বর মো. মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি গৌরীপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং এতে স্থানীয় শিক্ষক সমাজের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং শিক্ষক সমাজ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। গৌরীপুরসহ সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণের মনোনীত প্রতিনিধিরাই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ এসএমসির সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ফি বলতে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ফরম পূরণে ধার্যকৃত ৭ থেকে ১০ হাজার টাকাকে বুঝায়। কোন অবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে ২১শ’ থেকে ২৩শ’ টাকাকে বুঝায় না। বিজ্ঞান শাখায় বোর্ড নির্ধারিত ফি ১৮০০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়-১৬৮০ টাকা, তিন মাসের বেতন, মিলাদ, বিদায়ানুষ্ঠান, অনলাইন বিবিধ খরচ সমন্বয়ের জন্য অতি সামান্য ফি এর সঙ্গে ধরা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থের রশিদ দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সুষ্ঠু পাঠদান নিশ্চিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা ও নিয়োগকৃত খণ্ডকালীন প্রতি শিক্ষককে ৪/৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, সরকারি বিধি মোতাবেক কোন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি জাতীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক মনোনীত হয় না। প্রত্যেকেই এসএমসির সদস্যগণ দ্বারা সভাপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। বোর্ড নির্ধারিত ফি বিজ্ঞান শাখায় ১৭৭০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়-১৬৮৫০ টাকা। হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করা যাবে না।
ইত্তেফাক/জেডএইচ