ম্যাচ জিতেও অপেক্ষায় পূর্বাঞ্চল

বিসিএল

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডে জয় পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় দিনেই ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলকে ৩২১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মুমিনুল হকের দল। এই জয়ের শিরোপার স্বপ্ন টিকে থাকলো দলটির। যদিও সেই স্বপ্নের পরিণতি আজই জানা যাবে। ম্যাচ জিতেও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে পূর্বাঞ্চলকে। ৬ ম্যাচে ২৯.১৪ পয়েন্ট নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারা বা না পারার খবরটি পায়নি দলটি।

আজ বিসিবি উত্তরাঞ্চল-প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ম্যাচের ফলাফলে নির্ধারিত হবে বিসিএলের শিরোপা জিতবে কারা। ম্যাচটি ড্র হলে চ্যাম্পিয়ন হবে পূর্বাঞ্চল। আর দক্ষিণাঞ্চল বড় ব্যবধানে জিতলে দৃশ্যপট বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে টানা দ্বিতীয়বার বিসিএলের ট্রফি জিতবে দক্ষিণাঞ্চল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অবশ্য জয়ের সুবাসই পাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল। গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ৬২ রানে এগিয়ে দলটি। ডাবল সেঞ্চুরি পাননি এনামুল হক বিজয়। দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৫৪১ রানে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তুলে গতকাল দিনের খেলা শেষ করেছে উত্তরাঞ্চল। জিয়াউর রহমান ১৫ ও ধীমান ঘোষ ৩ রানে ব্যাট করছেন। এবার বিসিএলে প্রথম পাঁচটি ম্যাচই ড্র করেছিল পূর্বাঞ্চল। গতকাল লিগের শেষ ম্যাচেই একমাত্র জয় পেল দলটি। তাতেই জাগলো শিরোপার আশা। গতকাল মুমিনুল হক ও ইয়াসির আলীর সেঞ্চুরিতে তিন উইকেটে ২৫৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে পূর্বাঞ্চল। ক্যারিয়ারের ১৯তম সেঞ্চুরি করা মুমিনুল ১০০, ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করা ইয়াসির ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। জয়ের জন্য মধ্যাঞ্চলের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৫৬ রান। নাঈম হাসানের ঘূর্ণি তোপে ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস। ক্যারিয়ার সেরা ৪৭ রানে আট উইকেট নেন নাঈম। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই কোনো অফস্পিনারের সেরা বোলিং। মধ্যাঞ্চলের নাজমুল শান্ত ৩৬, সাইফ হাসান ৩১, মার্শাল আইয়ুব ১৬ রান করেন। নাঈম হাসান ম্যাচ সেরা হন।

চট্টগ্রামে গতকাল শেষ ৫ উইকেটে ১৩৪ রান যোগ করেছে দক্ষিণাঞ্চল। বিজয় ১৮০,  আল-আমিন জুনিয়র ১২৮, রাজ্জাক অপরাজিত ৩৫, মনির হোসেন ৩৩ রান করেন। উত্তরাঞ্চলের সানজামুল ১৫৮ রানে ছয়টি, এবাদত দুটি করে উইকেট পান। ২৪৮ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামে উত্তরাঞ্চল। জুনায়েদ সিদ্দিকী, নাঈম ইসলাম হাফ সেঞ্চুরি করলেও বাকিরা সুবিধা করতে পারেননি। জুনায়েদ ৭৭, নাঈম ৬৭ রান করেন। শেষ বিকালে আর বিপদ হতে দেননি জিয়াউর ও ধীমান।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল-ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল

পূর্বাঞ্চল-১ম ইনিংস: ৪২৫ ও ২য় ইনিংস: ৪৩ ওভারে ২৫৪/৩ ডি. (ইয়াসির আলী ১০১*, মুমিনুল ১০০, জাকির হাসান ১৫*, রনি তালুকদার ২৪; শাহাদাত ১/১৯, তাসকিন ১/৩৭, মোশাররফ ১/৮৯)

মধ্যাঞ্চল-১ম ইনিংস: ২২৪ ও ২য় ইনিংস: ৪২.২ ওভারে ১৩৪ (নাজমুল শান্ত ৩৬, সাইফ হাসান ৩১, মার্শাল আইয়ুব ১৬, জাকের আলী ১৩, আব্দুল মজিদ ১১, মোশাররফ ১১; নাঈম হাসান ৮/৪৭, আবু জায়েদ রাহী ২/৮)।

ফল: ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল ৩২১ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: নাঈম হাসান (পূর্বাঞ্চল)

বিসিবি উত্তরাঞ্চল-প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল

উত্তরাঞ্চল-১ম ইনিংস: ২৯৩ ও ২য় ইনিংস: ৫৮ ওভারে ১৮৬/৫ (জুনায়েদ ৭৭, নাঈম ইসলাম ৬৭, মিজানুর ১১, জিয়াউর ১৫*, ধীমান ঘোষ ৩*; নাহিদুল ১/৮, মনির হোসেন ১/২৬, শফিউল ১/৩১, রাজ্জাক ১/৪৫, মেহেদী হাসান ১/৭১)

দক্ষিণাঞ্চল-১ম ইনিংস: ১২৫.৩ ওভারে ৫৪১ (এনামুল ১৮০, আল আমিন জুনিয়র ১২৮, মেহেদী হাসান ৮৪, রাজ্জাক ৩৫*, মনির হোসেন ৩৩, তুষার ইমরান ১৪, নাহিদুল ২৬; সানজামুল ৬/১৫৮, এবাদত ২/৮৮, আরিফুল ১/৪১, সাকলাইন সজীব ১/১২৬)।