উচ্ছ্বসিত ‘জয়ের নায়ক’ মতিন

স্পোর্টস ডেস্ক

দলে সদ্য বিশ্বকাপ-ফেরত ফরোয়ার্ড ছিলেন। ছিলেন ফুটবলের তীর্থস্থান ব্রাজিল থেকে আসা খেলোয়াড়ও। এদের ছাপিয়ে জয়ের নায়ক বনে গেলেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া। দলের তারকাদের ছাপিয়ে দলের শিরোপা জয়ের নায়ক হতে পারায় বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিলেটের এই তরুণ।

 বুধবার স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে তারকা খেলোয়াড়দের ভীড়ে বসুন্ধরা কিংসের শুরুর একাদশে ছিলেন না মতিন। প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসে দেখেছেন দুটো দুর্দান্ত গোল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তার প্রতি আস্থা রেখে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যখন মাঠে নামালেন বসুন্ধরা কোচ, সে আস্থার প্রতিদান বেশ ভালোভাবেই দিলেন মতিন। ৯৬ মিনিটে শেখ রাসেল রক্ষণের ভুল থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে দলকে এগিয়ে দেন মতিন। ম্যাচশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মতিন বলেন, ‘মাঠে সুযোগ পেলেই নিজের শতভাগ ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করি। ম্যাচের পাঁচ দশ মিনিট পাওয়া সময়ে যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পাব। এই তাড়নাটাই ভালো খেলতে সাহায্য করে আমাকে।’

তারকাদের ছাপিয়ে জয়ের নায়ক বনে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও তাদের সাহায্যকেও ভুলে গেলেন না মতিন। বসুন্ধরার জয়ের নায়ক বলেন, ‘দলে অনেক স্টার খেলোয়াড় ছিলেন, তারা গোল করতে ব্যর্থ হলেও আমি তা পেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই আমি আনন্দিত। তবে মাঠে তারা বেশ সাহায্য করেছেন আমাকে। যার ফলেই এই গোলটা করতে পেরেছি।’

এদিকে তার এমন গোলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোচ অস্কার ব্রুজেনও। তিনি বলেন, ‘তার এই গোলটা অসাধারণ ছিল। এর পে­সমেন্ট, টাইমিং সবকিছু ‘পিনপয়েন্ট’ ছিল।’ ইনজুরি, সাসপেনশনের খড়গে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পায়নি বসুন্ধরা তার পরেও  শিরোপা জয়ে বেশ স্বস্তি প্রকাশ করলেন বসুন্ধরা কোচ। অস্কারের ভাষায়, ‘অজুহাত খোঁজার মানুষ আমি নই। ইনজুরির কারণে ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাইনি আমরা। তাদের বদলে যারা এসেছে তারাও সামর্থ্যের শতভাগ ঢেলে দিচ্ছে। এটাই আমার দলের বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেকেই দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিতে মরিয়া। এই প্রতিযোগিতাটা দলের জন্য বেশ ভালো। কিন্তু এটা কঠিন ছিল, কেননা প্রতিযোগিতাটা বেশ লম্বা ছিল। তিনটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়েছে আমাদের। তারপরও দিনশেষে নিজেদের জয়ী হিসেবে দেখতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত।’ 

আগের ম্যাচে জয়ের নায়ক গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো এদিনও বেশ ক’বার দলের ত্রাতারূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জিকোর প্রশংসায় ব্রুজেন বলেন, ‘আমাদের গোলরক্ষককে নিয়ে আমি বেশি কিছু বলব না, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, জিকো প্রতিদিনই ক্রমাগত উন্নতি করে চলেছে। ধীরে ধীরে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সে। সেই ভবিষ্যতে বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক থাকবে।’ 

এদিকে পুরো ম্যাচে দারুণ খেলেও হেরে যাওয়ায় খেলায় ভুলের আধিক্যকেই দুষছেন শেখ রাসেল কোচ সাইফুল বারী টিটু। একটুর জন্য শিরোপা ফসকে যাওয়ায় বেশ আক্ষেপও ঝরে পড়ল শেখ রাসেল কোচের কণ্ঠে। টিটু বলেন, ‘আমরা খুব ভালো সময়ে ম্যাচে ফিরে এসেছিলাম। তার পরে দ্বিতীয়ার্ধের শ্রেয়তর প্রতিপক্ষও ছিলাম আমরা। কিন্তু এমন সব ম্যাচে যে দল কম ভুল করে সে দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমরা পুরো ম্যাচ ভালো খেললেও ভুলের পরিমাণ আমাদেরই বেশি ছিল,  যার খেসারত দিতে হলো অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া করে।’