কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন

জামিনের পর আরিফকে মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করেন ডিসি

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পরপরই জনৈক ব্যক্তির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ডিসি দাবি করেছেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, ঐ সময় তিনি রৌমারীতে ছিলেন। এ সময় মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ ভবিষ্যতে সব সময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরিফকে চুপচাপ থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

এ সময় ডিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন মিডিয়াকে অ্যাভয়েড (এড়ানো) করে থাকো। মিডিয়াতে কথা বোলো না। তোমার ভবিষ্যত্ নিয়ে আপাতত চিন্তার দরকার নাই। আমরা তোমার পাশে থাকব। তোমার মামলা প্রত্যাহার করে নেব। একটু সময় দিও। চাকরির ব্যাপারেও কোনো টেনশন কোরো না। একটু পজিটিভলি দেখতে হবে।                আরিফ তখন তাকে বেধড়ক মারধর কেন করা হয়েছে তার কারণ জানতে চান। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় স্বাক্ষর নেওয়া চারটি কাগজ ফেরত চান। এ সময় সুলতানা পারভীন বলেন, ‘আমি নিজেও আসলে অনুতপ্ত। মোবাইল কোর্টের আদেশে তোমার সই নিয়েছি। আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তোমাকে ফেরত দেব...। যাই হোক, এখন ঘটনা ঘটে গেছে, তুমিও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪০ জনের একটি দল বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসার দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে মারধর করে প্রথমে এনকাউন্টারে দেওয়ার (গুলি করে হত্যার) হুমকি দেয়। সেখান থেকে তাকে তুলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এরপর সাজানো মামলায় ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সঙ্গে দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় অধূমপায়ী আরিফকে। এ ঘটনায় ঐ ডিসিসহ চার জনকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের সাফাই গাইলেন ডিসি

এদিকে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামবাসীর উদ্দেশে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি কিছু জানতেন না বলে দাবি করে বলেন, ‘অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে আমাকে দায়ী করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও পরিবেশিত হচ্ছে, তাতে আমি প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত। নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় অভিযানটি পরিচালিত হয়, যাতে আমার সামান্যতম কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। কিন্তু আমাকে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে এবং হস্তক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে নিষ্ঠুরভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি পরিত্যক্ত পুকুর খনন বিষয়ে আমাকে বারবার দোষী করা হচ্ছে। পুকুরটি সংস্কারকালে দু-এক জন পার্কের পুকুরটি সুলতানা সরোবর নামে নামকরণের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার পোস্ট দেন। পুকুরটি নিজের নামে নামকরণে আমার কখনোই কোনো খায়েশ ছিল না কিংবা এখনো নেই। পুকুরটি পার্ক পুকুর নামেই আছে। কিন্তু এই পুকুরটির নামকরণকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে এবং আমাকে বারবার অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’