কুমিল্লা-৭ আসন
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
স্বাধীনতার পর থেকে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনটি ধরে রেখেছেন অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং ড. রেদোয়ান আহমেদ। গত দশটি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আটটিকে চান্দিনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন হেভিওয়েট ওই দুই নেতা। তারা প্রত্যেকেই চারবার করে নির্বাচিত হয়ে কেউ হয়েছেন ডেপুটি স্পিকার আবার কেউ হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আর তাই আসনটি ধরে রাখতে চান আলী আশরাফ আর পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ড. রেদোয়ান আহমেদ।
আর ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন ছয়বার। যার চারটিতে রেদোয়ান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে চলতি একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সবগুলোতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ।
ছাত্রলীগ রাজনীতির মধ্যদিয়েই রাজনীতি শুরু করেছেন অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নৌকায় পাল তোলেন। তারপর থেকে আটটি সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হিসেবে চান্দিনা আসনে বিভিন্ন প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়, ২০০৮ সালে তৃতীয় ও ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দলীয়ভাবে পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক পদসহ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদও। এবার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে আসনটি ধরে রাখতে চাইছেন অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ। অপরদিকে, ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. রেদোয়ান আহমেদ। ১৯৮৬ সালে নাঙ্গল প্রতীকে দ্বিতীয়বার, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বার এবং ২০০১ সালে আবারও ধানের শীষ প্রতীকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৬ সালে ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি ছেড়ে নতুন দল এলডিপি গঠন করেন। পরবর্তীতে পান ওই দলের মহাসচিব পদ। এলডিপি যখন বিএনপি’র সাথে জোটভুক্ত হয় তখন সেটি হয় ওই জোটের অন্যতম একটি শরীক দল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. রেদোয়ান আহমেদ এই আসন থেকে পান ২০ জোটের প্রার্থিতা। ২০০৫ সালের পর দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর ক্ষমতাচ্যুত থেকে পঞ্চমবারের মতো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। দুই প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হতে চালাচ্ছেন জোর তত্পরতা। এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও জনসভার মধ্যদিয়ে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।