স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
ভোটের মাঠে বগুড়ার সাতটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বেশির ভাগ আসনে ধানের শীষের তেমন প্রচারণা নেই। আইনি মারপ্যাঁচ আর মামলা-হামলার ফাঁদে পড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেকেই এলাকা ছাড়া হয়েছেন। দুর্গখ্যাত বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারে সুবিধা করতে না পারায় সংকটে রয়েছে বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নেই। আইনি জটিলতায় প্রচারণার মাঝখানে এসে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আবদুল মান্নান এবারও নৌকার প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি প্রচারণায় সরব রয়েছেন। দুই উপজেলায় গণসংযোগ, পথসভা, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক এবং প্রচারপত্র বিলি ও মাইকিং করে ভোট চাইছেন। আর উল্টো চিত্র ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে। প্রচারণার মাঠে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না তাকে। এলাকায় তেমন দেখা যাচ্ছে না ধানের শীষের পোস্টারও। বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, তিনি নামতেই পারছেন না।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি বিনা বাধায় ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন, গণসংযোগ করছেন। আর ধানের শীষের প্রার্থী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে এলাকায় মাত্র তিনদিন দেখা গেছে। কর্মীদের নামে মামলা থাকায় গ্রেপ্তারের ভয়ে ধানের শীষের কর্মীরা মাঠে নামছেন না।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আইনি জটিলতার পরে অবশেষে মাঠে নেমেছেন ধানের শীষের মাছুদা মোমিন। তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক রয়েছেন। এই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকায় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। অন্যদিকে আওয়ামী সমর্থিত মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মহাজোট প্রার্থী জাসদের বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম রেজাউল করিম তানসেন। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তার পক্ষে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। এখানে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ। তিনিও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাধার মুখে পড়ছেন। জিএম সিরাজ ১১ ডিসেম্বর ধুনটে হামলার শিকার হন। তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে তিনটি গাড়ি এবং প্রায় ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি নূরুল ইসলাম ওমর। তার পক্ষে সরব হয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জিয়া পরিবারের আসন হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল নিয়ে লড়ছেন মুহাম্মদ আলতাফ আলী। মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। এখানে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটনের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় এখন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নেই।