উপকথা

প্রাচীন ভারতীয় উপকথা শক্তিশালী ইঁদুরবাহিনী

এক প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কিছু ইঁদুর বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছিল। তাদেরকে ধরা কিংবা মারার জন্যে সেখানে কোনো বিড়াল ছিল না। পুরোনো পণ্যাগারটিও খাদ্য-শস্যে ঠাসা ছিল।

তাদের জীবন সুন্দরভাবেই যাচ্ছিল। কিন্তু এক সময় এক দল হাতি তাদের এই শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে বাধা হয়ে দাঁড়াল। দেশব্যাপী অনাবৃষ্টি এবং দারুণ খাদ্যাভাবে হাতিগুলো ইঁদুরদের শহরের কাছে নদীর ধারে আশ্রয় নিল।

হাতিদের নদীতে যাওয়া-আসার পথে পদদলিত হয়ে প্রতিদিন কিছু ইঁদুর মারা পড়তে লাগল। বিষয়টি নিয়ে সেখানকার ইঁদুরসমাজে দারুণ তোলপাড় সৃষ্টি হলো।

একটা বিহিত-ব্যবস্থা করার জন্যে ইঁদুরদের একটি সভা ডাকা হলো। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুগ্রহ চেয়ে হাতিদের রাজার কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হলো। প্রতিনিধিদল রাজাকে বিনয়ের সঙ্গে বলল, ‘মহারাজ, আমরা নেহায়েত ক্ষুদ্র প্রাণী। সম্ভবত আপনার প্রজারা নদীতে যাওয়া-আসার পথে ভুলক্রমে ইঁদুরদের পদদলিত করছে। প্রতিদিনই কিছু ইঁদুর বিনা দোষে মারা পড়ছে। আপনি দয়া করে আমাদেরকে রক্ষা করুন।’

ইঁদুরদের করুণ আর্তনাদ শুনে দয়ালু হাতিরাজ বিচলিত হয়ে পড়ল। রাজা তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে। এখন থেকে আমরা ঘুরপথে নদীতে যাব। তোমাদের আর কোনো ক্ষতি হবে না।’

প্রতিনিধিদল তাদের দুতিয়ালি সফল হওয়ায় খুশি হলো। তারা ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হাতিদের সেবা করবে বলে প্রতিজ্ঞা করল।

খুব তাড়াতাড়িই ইঁদুরদের জন্যে একটি সুযোগ এসে গেল। অদূরেই শিকারিদের হাতি ধরার একটি খেদা ছিল। একদিন হাতিরাজসহ কয়েকটি হাতি লতাপাতায় ঢাকা খেদার মধ্যে আটকা পড়ল। শিকারিরা তাদেরকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলল।

এই বিপদের সময় হাতিরাজের মনে পড়ল ইঁদুরদের প্রতিজ্ঞার কথা। রাজা ইঁদুরদের খবর দেয়ার জন্যে মুক্ত হাতিদের কাছে বার্তা পাঠাল। খবর পাওয়ামাত্রই ধারাল দাঁতযুক্ত ইঁদুরসেনার দল খেদা অভিমুখে যাত্রা করল।

ইঁদুরসেনারা খেদায় পৌঁছে দ্রুত রশিগুলো কেটে বন্দি হাতিদের মুক্ত করল। ইঁদুররা তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিল। তারা হাতিদের ঋণ শোধ করতে পেরে দারুণ খুশি হলো।

পুনঃকথন: আহমেদ জসিম