শেয়ারবাজারে করোনা আতঙ্ক বাড়ছেই

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভয়াবহ ধসের কবলে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণাও ধস ঠেকাতে পারছে না। এই পতনের কবলে পড়ে শেষ ১০ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৬৮৩ পয়েন্ট কমে গিয়েছে। আর ৭ কর্মদিবসে শেয়ারবাজার ৪৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে।

সাম্প্র্রতিক সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিপর্যয়ের কারণে পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছিল। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মন্দা পুঁজিবাজারে পতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়ার পর থেকে পুঁজিবাজারে টালমাটাল অবস্থা।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেক ব্যাংক বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করতে পারবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। এ ঘোষণায় বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও শেষ পর্যন্ত তা কোনো কাজে আসছে না।

দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬৮ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৬০৩ পয়েন্টে নেমে আসে। এটি আগের সাত বছরের মধ্যে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ মের পর ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৩ হাজার ৫৫৯ পয়েন্ট।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘোষণার দিন ডিএসই বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। একইদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৪ হাজার ২৮৭ পয়েন্ট। মাত্র সাত কার্যদিবসে বড়ো ধরপতনের কারণে গতকাল বুধবার ডিএসইর মূলধন ৪৪ হাজার ১২৮ কোটি টাকা কমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬৮৩ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৬০৩ পয়েন্টে নেমে আসে।

গতকাল ডিএসইর লেনদেন অংশ নেওয়া মাত্র ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৩টির। আর ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। 

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৪৪২ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ১৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।