বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি (টেস্টিং কিট) উদ্ভাবন করেছে বলে দাবি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের উদ্ভাবিত কিটটি ৫ থেকে ১৫ মিনিটেই করোনা শনাক্ত করতে পারে। গতকাল বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটা একটি ভিন্নতর পদ্ধতি। এই টেস্টিং কিটের নাম—‘র্যাপিড ডট ব্লট।’
এ প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস নির্ণয়ে নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটে কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা জানা যাবে। এতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো। সরকার যদি এর ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ না করে তাহলে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বাজারজাত করতে পারব। ডা. বিজন কুমার শীল ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুরে সার্চ শনাক্তের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, এর প্যাটেন্ট পরবর্তীতে চীন কিনে নেয়। তিনি বলেন, সারাদেশে এখন মাত্র ২৬৮টি করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট অবশিষ্ট রয়েছে। অথচ সারাদেশের মানুষ ভীত। সরকার যদি এ ভাইরাস শনাক্ত করতেই না পারে তাহলে সাধারণ মানুষের চিকিত্সা হবে কি করে বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওষুধ প্রশাসনের অজ্ঞতা, অদক্ষতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও জরুরি অবস্থা না বোঝার জন্য এ পদ্ধতি জনগণের জন্য সরবরাহ করতে পারছেন না। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এ উদ্ভাবনে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি টাকা। এখন সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। সরকার অনুমতি দিলে এক মাসে এক লাখ মানুষের কোভিড-১৯ শনাক্ত করা যেতে পারে এ পদ্ধতির মাধ্যমে। ডেঙ্গু টেস্টের যেমন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল করোনা টেস্টেরও যদি মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তাহলে জনগণ স্বল্পমূল্যে সেবা পাবে। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাইরের তিন দেশ প্যাটেন্ট কিনতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।