টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বরে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ পিরামিড আকৃতির নান্দনিক স্তূপ আবিষ্কার হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণার প্রকল্প পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
প্রকল্প পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিন জানান, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নাটেশ্বরের দেউলে খননের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহত্ পিরামিড আকৃতির নান্দনিক স্তূপ আবিষ্কার করা হয়েছে। দক্ষিণ পাশের নতুন এ বাহুটি ৪৪ মিটার দীর্ঘ। এর আগে গত দুই বছর এ স্থাপত্যটির উত্তর ও পূর্ব বাহুর অংশবিশেষ উন্মোচিত হয়। এবছর উত্খননে দক্ষিণ বাহুটির প্রায় পুরো অংশ উন্মোচিত হওয়ায় স্থাপত্যটির অনেক রূপ ফুটে উঠেছে। বাহুটির মেদির দেয়াল ৬৪ সেন্টিমিটার উঁচু এবং প্রশস্ত প্রায় ৩ মিটার। অন্ড অংশে কোনো কোনো জায়গায় ৩ মিটার পর্যন্ত টিকে রয়েছে। দেয়ালের বহির্পাশ্বের চারটি প্যানেলে বিভক্ত করে মনোরম নকশা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্র অংশ মাটি দ্বারা ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে স্তূপটি নিরেট আকার ধারণ করেছে। আবিষ্কৃত পিরামিড আকৃতির স্তূপ স্থাপত্যের উচ্চতা প্রায় ৪৪.৬৪ মিটার উঁচু। এসময় আরো জানানো হয় পিরামিড আকৃতির স্তূপটির সময়কাল জানার জন্য আমেরিকার বেটা এনালাইটিক ইনক ল্যাবে পাঠানো হয়। কার্বন-১৪ তারিখ নির্ণয়ের মাধ্যমে জানা যায় স্তূপটি ৭৮০-৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ পূর্বের। ইতিমধ্যে মেদির চারপাশে ইট বিছানো প্রদক্ষিণ পথের চিহ্নও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রদক্ষিণ পথটি এখনো ২.৫ মিটার টিকে আছে।
আবিষ্কারের তাত্পর্য সম্বন্ধে নূহ-উল-আলম জানান, বৌদ্ধ ধর্মে স্তূপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য। স্তূপটি মুখ্যত সমাধি তবে এটি বৌদ্ধ ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতিকেও প্রতিনিধিত্ব করে। এই স্থাপত্যের মাধ্যমে গৌতম বুদ্ধ ও তার প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মকে প্রতীকায়ন হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়। স্তূপটি স্থাপত্যের মূল অংশ অন্ড সাধারণত গম্বুজাকৃতি হয়। কিন্তু নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত স্তূপটি টি ব্যতিক্রমী- দুষ্প্রাপ্য পিরামিড আকৃতির। দুষ্প্রাপ্য পিরামিড আকৃতিই নিজে একটি তাত্পর্যবহন করে এবং বাংলাদেশে এটি এই প্রথম। অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানের জন্মভূমি বিক্রমপুরে প্রায় ১২০০ বছর প্রাচীন।
বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পণ্ডিত অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানের জীবনী গ্রন্থে উল্লেখিত নগর ও অট্টালিকার সঙ্গে নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত বিশাল আকৃতির স্তূপের অনেকটা মিল পাওয়া গেছে। অতীশ দীপঙ্করের জীবনীতে লেখা হয়েছিল ভারতের পূর্ব দিকে একটি দেশ আছে, যার নাম জিয়া বাং লাও। সেই নগরে হাজার হাজার ভবন রয়েছে। নগরের প্রাসাদটি সোনার অলংকরণে সাজানো। সম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় আবিষ্কৃত বিশাল আকৃতির পিরামিডটি তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ঐতিহ্য অন্বেষণ বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু করে। ২০১০-১৩ পর্যন্ত ৯টি প্রত্নস্থানে পরীক্ষামূলক উত্খনন কাজ পরিচালনা করে।