পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবনার চাষিরা

পাবনা জেলা দেশের অন্যতম পেঁয়াজ ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও হয়েছে ভালো। চারা পেঁয়াজ মার্চের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে আর কমছে দাম। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে পুরোদমে এই পেঁয়াজ বাজারে আসবে। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

সরেজমিনে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শেলন্দা-নারিন্দা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ খেতে আগাছা পরিষ্কার সেচ, সার, কীটনাশকে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় দম ফেলার ফুসরত নেই চাষিদের। যারা আগাম পেঁয়াজ বুনেছেন তারা খেত থেকে পেঁয়াজ তোলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। ঈশ্বরদীর আথাইলশিমুল গ্রামের কৃষক সুরুজ আলী জানান, গত মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফলন ভালো হয়নি। পাশাপাশি বৃষ্টিতে ভেজা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় সংরক্ষণ করতে পারেননি চাষিরা। তবে এবার বাজার দর ভালো তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন।

অনেকেই ধানের স্কিম বাদ দিয়ে লাভের আশায় পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত খেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলন হবে বলেই ধারণা চাষিদের। তবে ভারতের পেঁয়াজ আসা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। দাশুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার হামিদুল ইসলাম টিপু বলেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ ওঠার সময় ভারত থেকে আমদানির কারণে দাম কমে যায়। এছাড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় একসঙ্গে কৃষককে উত্পাদিত পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। সরকার আলু, ধানসহ বিভিন্ন ফসল সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিয়েছে। এমন ব্যবস্থা পেঁয়াজের জন্য করা হলে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং ব্যবসায়ীরাও বাজারে কারসাজি করতে পারবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনার উপপরিচালক আজাহার আলী জানান, চলতি মৌসুমে যে ভালোমানের পেঁয়াজ ব্যাপক পরিমাণে উত্পাদন হয়েছে তাতে রমজানেও আমাদানির প্রয়োজন নেই। জেলায় পেঁয়াজ বেশি উত্পাদন এলাকায় বড়ো পরিসরে আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসআই