সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে ইংলিশ ক্লাবগুলো

করোনা ভাইরাসের কারণে মাঠে ফুটবল নেই। ফুটবলাররা তাদের সহজাত কর্ম খেলতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতিতে ইংলিশ ফুটবল ক্লাবগুলো এখন স্থানীয় সমাজকে সাহায্য করার ব্যাপারে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করছে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত থাকায় লিভারপুলের ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম শিরোপা জয়ের বিষয়টি থমকে গেছে। লিগটি আপাতত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ। লিভারপুল এই সময়ে চারটি ও তাদের পড়শি এভার্টন পাঁচটি খেলায় অংশ নিত। খেলাগুলো ছিল তাদের নিজ মাঠের। এই খেলাগুলোয় একটি দাতব্য সংস্থা ‘ফ্যানস সাপোর্টিং ফুডব্যাংকস’ লিভারপুল ও এভার্টনের মাঠ থেকে খাদ্য সাহায্য তুলতো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তত্পরতায় যেন ঘাটতি না পড়ে তাই লিভারপুলের খেলোয়াড়রা এবং ক্লাবটির ফাউন্ডেশন ৪০ হাজার পাউন্ড (৪৬ হাজার ডলার) দিয়েছে। লিভারপুল ক্লাবের ফাউন্ডেশনের পরিচালক ম্যাট প্যারিস এএফপিকে বলেন,‘প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনোভাবে লোকজন এই ফুডব্যাংকটা ব্যবহারে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজের অনগ্রসর মানুষরাই সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন,‘তারা খাবার মজুত করতে পারে না। তারা নিজেদের ঘরে খাবারের সংগ্রহ গড়ে তুলতে পারে না। এই সময়ে তাদের এই সমর্থনটা অব্যাহত থাকা দরকার।’

লিভারপুলের কর্মীরা খাবার সংগ্রহ ও বিতরণে বড়ো ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। কারণ এই ফুডব্যাংকটিতে কাজ করত বয়সি মানুষরা। এরাই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের এই সময়ে সবচাইতে ঝুঁকিতে আছে। ক্লাবটির এই ফাউন্ডেশন স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এছাড়াও ফুটবল কোচিং, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ও বয়স্কদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করত। এখন এসব বন্ধ রয়েছে।

তবে এর পরিবর্তে ফিটনেস ভিডিও দেওয়া হচ্ছে যাতে ঘরেই তা বাস্তবায়িত করতে পারে। এতে করে একাকিত্বে যেতে বাধ্য হওয়া লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্যারিস বলেন,‘শারীরিক সক্রিয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার লোকজন যেন মনে না করে তারা স্রেফ গৃহে আটকা পড়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই সচেতন আছি।’

এ তো গেল বড়ো ক্লাবের কথা। আবার ইংলিশ ফুটবলের নিচের দিকে লিগ টুর ক্লাব স্টেভেনেজ বিপদাপন্নদের জন্য তাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছুই করছে। ক্লাবটির মালিক ফিল ওয়ালেশও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটা হটলাইন শুরু করতে যাচ্ছেন। এর সুবাদে সত্তরোর্ধ্বরা খাবার সরবরাহের, প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ কিংবা কেউ যখন নিজেদের একাকিত্ব অনুভব করেন সেই সময়ে গল্প করার সুযোগ পাবেন।

ওয়ালেশ বলেন, ‘তারা যদি বেরই হতে না পারেন তাহলে খাবার সংগ্রহ করবেন কীভাবে? আমাদের রান্নার ঘর আছে যা আমরা ব্যবহার করছি না। আমাদের ছেলেরা আছে যারা ফুটবল খেলতে পারছে না। আমি খাবার তৈরি করতে পারি, আমাদের কাছে থাকা স্টাফদের দিয়ে লোকজনের কাছে খাবার নিয়ে যেতে পারি। আমরা তাদের জন্য একটা ‘হেল্পলাইন’ এর জোগান দিতে পারি।’

মৌসুম সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে নিচের দিকের ক্লাবগুলোর জন্য আর্থিক পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। কিন্তু ওয়ালেশ এর কাছে নিজ সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে এটা হচ্ছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো প্রণোদনায় ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়। বিশেষ করে যে ক্লাবগুলোর ভিত্তি স্থানীয় সমাজের মধ্যে।

এদিকে চেলসি ক্লাব গত বুধবার জানিয়েছে তারা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বৃটেনের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে থাকা সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কর্মীদের জন্য একটা হোটেল চালু করতে যাচ্ছে। কারণ এরকম কিছু না করলে এই কর্মীদের অনেক দূর থেকে এসে কাজ করতে হবে। ব্রাইটন ক্লাবও তাদের হয়ে খেলার দিনগুলোয় যে ৬০০র বেশি অস্থায়ী কর্মী কাজ করে তাদের অবশিষ্ট ম্যাচগুলো হোক বা না হোক, সেজন্য অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। চলতি মৌসুমে ব্রাইটনের মাঠে আরো যে পাঁচটি খেলা হবার কথা সেগুলো আর হবে কি হবে না সে নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী পল বারবের বলেন,‘আমাদের তরফে তাদের সমর্থন জোগানো গুরুত্বপূর্ণ।’