গুজব ছড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি

২৫ প্রতিষ্ঠান ও তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বিভিন্ন স্থানে ভোগ্যপণ্যের বাজারেও করোনার প্রভাব পড়েছে। এতে ভোগ্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে। গুজব ছড়িয়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে চালসহ নিত্যপণ্য বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ২৫ প্রতিষ্ঠান ও তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে গুজব ছড়িয়ে অবৈধ মজুত ও চালসহ নিত্যপণের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার লাকসামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চালের আড়তসহ ১২ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম সাইফুল আলম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল আলম জানান, গত কয়েক দিন যাবত্ চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি ও গুদামজাতকরণের সংবাদ পেয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রি করায় দুই চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রির খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলীর নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা বাজারে বেশি দামে চাল বিক্রির দায়ে মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা এবং আল্লারদর্গা বাজারের হযরত আলী ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মূল্য তালিকা না রাখা ও ভোগ্যপণ্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজদিখান বাজারে  ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ।

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, গত কয়েকদিনে দিনাজপুরে বাজারে অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে চাল বিক্রি। আর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দামও বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত টাকা। ৫০ কেজির প্রতিবস্তা চালের দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। করোনা ভাইরাসের কারণে ভোক্তারা ভবিষ্যত্ খাদ্য মজুতের কারণে চাল বিক্রি বেড়েছে বলে মনে করছেন চাল বিক্রেতারা। বাহাদুরবাজার এন এ মার্কেটে মঙ্গলবার গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। বাহাদুর বাজারের চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, আগে প্রতিদিন তিনি ১৫ থেকে ২০ বস্তা চাল বিক্রি করতেন। এখন তার প্রতিদিন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ বস্তা।

চাটখিল ও সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, চাটখিল ও সোনাইমুড়িতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত না হলেও এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। গত চার-পাঁচ দিনে প্রতি বস্তা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০০-৫০০ টাকা, কাঁচা শাকসবজিসহ অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের একই অবস্থা। খিলপাড়া বাজারের নুর আলম ট্রেডার্সের মালিক নুর আলম বিপ্লব জানান, তার দোকানে গত কয়েকদিন থেকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই আছে। বিক্রি হচ্ছে আগের থেকে দুই-তিন গুণ বেশি।

বাজারে আসা শংকরপুর গ্রামের মনির হোসেন জানান, হঠাত্ করেই চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া ২০-২৫ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২৫ টাকায়।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা না ঝুলানোয় বৃহস্পতিবার তিন চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মৈত্রেয় ভান্ডার ও ত্রয়ী রাইস মিলকে ২০ হাজার, সিকদার ট্রেডার্সকে ৫ হাজার ও হাজি রফিউদ্দিন অ্যান্ড সন্সকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে শহরের কালীবাড়ীর পাশে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভূপালী সরকার বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চালের মূল্য তালিকা না থাকায় তিন জন চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, গত কয়েক দিন দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে কেন্দ্র করে ফেনী জেলাসহ ছয়টি উপজেলায় অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে তত্পর হয়ে উঠেছে। ফেনী শহরের কয়েক জন ক্রেতা জানান, প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শত শত ট্রাকে চাল, আলু, পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ফেনী শহরে স্থানীয় ইসলামপুর রোড ও তাকিয়া রোডের পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুদামজাত করছে। 

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আট প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য দিকে বালাগঞ্জ সদর বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালাবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাহমিনা আক্তার।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কমলগঞ্জের শমশেরনগরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে। ক্রেতাদের হিড়িক দেখে বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্রেতারা ঈদের বাজারের মতো পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছেন। আনোয়ার হোসেন, জমশেদ আলীসহ কয়েক জন ক্রেতা বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে হঠাত্ করে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়ে যায়।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম নাসরিন চৌধুরী বলেন, দাম বাড়ার খবর পেয়ে শমশেরনগর, কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেছি। ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ালে দোকানিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।