আর্থিক মন্দা ঠেকাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যুদ্ধে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে নিজেকে যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউজে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি নিজেকে যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট মনে করছি। কারণ আমরা সবাই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে এই লড়াই করছি। করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক মন্দা ঠেকাতে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর্থিক মন্দা ঠেকাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ছাড় করবেন। এজন্য করদাতাদের ৫০০ বিলিয়ন ডলার দেবেন। ব্যক্তি পর্যায়ে চেকের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও বড়ো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আরো ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে চাইছেন। এর মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোকে ৫০ বিলিয়ন ডলার বেইলআউট দিতে চান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও চেকের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করেছিলেন। তবে এই অর্থ ছাড়ের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। সেক্ষেত্রে প্রধান দুই দলের মধ্যে মতৈক্য দরকার। কত দ্রুত এই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে তা এখনই স্পষ্ট নয় বলে খবরে বলা হয়েছে। যদিও জরুরি মুহূর্তে বড়ো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের রয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর দুটি হাসপাতাল জাহাজ নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  

 

করোনার ওষুধ শিগগিরই: ট্রাম্প

আসছে করোনার ওষুধ:মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিগগিরই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিত্সায় নতুন ওষুধ আসছে। ইতিমধ্যে তার সরকার একটি ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাম্প করোনা মোকাবিলায় গঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠকে এই ঘোষণা দেয়ার পর দেশটির চিকিত্সা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এত তাড়াহুড়া করে এই ওষুধ ব্যাপকমাত্রায় মানুষের উপর প্রয়োগ করার সূদুরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নামের এই ওষুধটি ম্যালেরিয়া এবং আর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য কার্যকরী। করোনার জন্যও এটি কার্যকর হবে বিধায় অতি দ্রুত এটি বাজারে আনা হচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয় মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন এক্ষেত্রে ‘লাল ফিতা’র বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না যাতে দ্রুততার সাথে ওষুধটি বাজারে আনা যায়। ট্রাম্প বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে ‘মেডিকেল ওয়ার’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মানুষ করোনার বিরুদ্ধে লড়তে এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, ট্রাম্প যে প্রতিষেধকের কথা বলছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষকরা কাজ করছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মানুষ দ্রুতই আশার আলো দেখতে পাবে।