বন্দিদের অনুপস্থিতিতে হবে জামিন শুনানি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হতে কারাবন্দি আসামিদের রক্ষায় তাদেরকে আদালতে হাজির না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ নির্দেশনা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার আসামিদের হাজির না করে জামিন শুনানি করতে অধস্তন আদালতের বিচারকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য কার্যক্রম কারাবন্দি আসামির অনুপস্থিতিতে পরিচালনা করা না গেলে তা মুলতুবি রাখতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসব নির্দেশনা দেন। ঐ নির্দেশনা আইন সচিব, পুলিশের আইজি, সকল জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, পুলিশ কমিশনার, আইজি প্রিজন্সসহ অধস্তন আদালতের সকল পর্যায়ের বিচারকদের পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদেরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে। সম্প্রতি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কারাগারগুলোতে ৪৬ হাজারের মতো বন্দি ধারণক্ষমতা থাকলেও এ পর্যন্ত ৮৮ হাজারের বেশি বন্দি কারাগারে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান বিচারপতির এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। কারণ কারাগারে গাদাগাদি করে বন্দিরা বাস করেন। কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় যদি কোনো বন্দির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেটা হবে অনেক ভয়ানক।

গতকাল প্রধান বিচারপতির জারিকৃত             নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে কারাবন্দি আসামিদের জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে আদালতে হাজির করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে কারাবন্দি আসামিদের কারাগার হতে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত কক্ষে হাজির করা যাবে না। কারাবন্দি আসামিদের কারাগারে রেখে জামিন শুনানি করতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম মুলতুবি করতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতসমূহে জামিন শুনানি ও মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে কারাবন্দি আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত কক্ষে হাজির না করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এখন আসামির অনুপস্থিতিতে আইনজীবীর মাধ্যমেই জামিন শুনানি চলবে।  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে নিরাপদ রাখতে প্রধান বিচারপতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।