রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে সত্তরোর্ধ্ব সুলতানা বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সতীশ সরকার রোডের ৩০/এ নম্বর বাড়ির দোতলায় নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে ঐ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের ছেলে রেহানুল আলম খান তপুকে আটক করেছে পুলিশ।
গেন্ডারিয়া থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, গত তিন-চার দিন ধরে ঐ ফ্ল্যাটটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গতকাল প্রচণ্ড দুর্গন্ধে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে আমরা গিয়ে ফ্ল্যাটের গেট ভেঙে ঐ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করি। চার-পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হবে।
মৃতের পরিবারের বরাত দিয়ে গেন্ডারিয়া থানার এসআই নাজমুল জানান, সুলতানা বেগম অসুস্থ ছিলেন। তবে তিনি অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃতের ছোটো ছেলে তপুর সঙ্গে ঐ বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন সুলতানা বেগম। তবে ঐ ফ্ল্যাটে তার আরো দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন। কিন্তু সুলতানার মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন পরও সন্তানরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেন দাবি করেছে। তাই এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছোটো ছেলে তপুকে থানায় আনা হয়েছে।
পুলিশের ওয়ারী জোনের এসি মো. হান্নানুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড়ো মেয়ে তার স্বামীকে নিয়ে সতীশ সরকার রোডের ঐ বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন। ছোটো মেয়ে তার স্বামীকে নিয়ে গুলশানে থাকেন। বড়ো ছেলে পারভেজ আলম ঐ বাড়ির নিচতলায় থাকেন। মেঝো ছেলে হংকং থাকে। আর ছোটো ছেলে তপু মাকে নিয়ে দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকত।
সর্বশেষ গত সোমবার পারভেজ তার মাকে খাবার খাইয়েছে বলে তপু জানিয়েছে। ভাই-বোনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন ছিল। তিনি স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে এসি জানান, সুলতানা বেগমের মৃত্যু নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
সেলুনে কর্মচারীর লাশ : গতকাল সকালে সবুজবাগে সেলুন দোকানের ভেতর থেকে শাহিন মন্ডল (৪০) নামে এক কর্মচারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। মৃতের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর থানার তুলসীঘাট বিষ্ণপুরে। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে মৃতের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
সবুজবাগ থানার এসআই নিবাস মিস্ত্রী জানান, মধ্যবাসাবোর ম্যানস ফ্যাশন নামে একটি সেলুন দোকানের কর্মচারী ছিলেন শাহিন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে দোকানের ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়।