লোকসাহিত্যিক, গবেষক ও কবি আশরাফ সিদ্দিকী (৯৩) বুধবার চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। বাদ জোহর ধানমন্ডির শাহী মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ৪০-এর দশকে কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করা আশরাফ সিদ্দিকী পাঁচ শতাধিক কবিতা লিখেছেন। গবেষণা করেছেন বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে। একাধারে তিনি ছিলেন প্রবন্ধকার, লোকসাহিত্যিক, গবেষক, ছোটোগল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭৫টি। ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে একুশে পদক, ১৯৬৪ সালে শিশুসাহিত্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৬ সালে সাহিত্যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, ইউনেসকো পুরস্কার, লোকসাহিত্য গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের নাগরবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই সব্যসাচী সাহিত্যিক পড়াশোনা করেন শান্তিনিকেতন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়াও আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৮ সালে দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে ‘তালেব মাস্টার’ কবিতা রচনা করে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে গণমানুষের কবি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ‘গলির ধারের ছেলেটি’ ছোটোগল্প লেখক হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে। এই ছোটোগল্প অবলম্বনে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, ময়মনসিংহের এম এ কলেজ, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট, নজরুল একাডেমির আজীবন সভাপতি এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে ড. আশরাফ সিদ্দিকীর মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির জেপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেন।