বিনোদন রিপোর্ট
করোনা আতঙ্কে কাজ বন্ধ থাকায় এরই ভেতরে তারকারা ঘরে বসে বিকল্প কাজে অংশ নিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে তাহসান ও মেহের আফরোজ শাওন দুজনই নিজ গৃহে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
কণ্ঠশিল্পী অভিনেতা তাহসান তার একাধিক কনসার্ট ও নাটকের কাজ বাতিল হওয়ায় ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন। তাহসান জানান, ‘নিজে সচেতন থেকেই তবে অন্যকে বলা যায়। এখন আমি ঘুরে বেড়াবো আর বলবো সবাই ঘরে থাকুন এটা তো হয় না। আর এই সময়টাতে গান লেখা, সুর ও সংগীতের কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমার মনে হয় প্রত্যেক সৃজনশীল মানুষই গৃহবন্দী হয়েও দারুণ কিছু করতে পারেন।’
এদিকে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী মেহজাবীনও অবাক করার মতো হলেও বেকার সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু তারকারা কোনো সময়েই বেকার থাকেন না। তুমুল ব্যস্ত সময় পেরিয়ে এখন বরং নিজেকে ও নিজের পরিবারকে দেবার জন্য সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি মেহজাবীন তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে তার ভক্ত দর্শকদের উদ্দেশ্য করেই সচেতন থাকার কথা বলেন সবাইকে। তবে তার এই হঠাত্ অবসর ও জরুরী অবস্থায় ঘরে বসে কী করবেন তা জানতে চাইলে প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাঝে মাঝে দর্শকদের সচেতন করতেই আসবো। গল্প উপন্যাস পড়ার জন্যও সময় পেলাম। এছাড়া অনেকেই স্ক্রিপ্ট দিয়ে যায়। সেগুলো সময় নিয়ে পড়া যাবে এখন। সবকিছুর বাইরে আমি আমার দর্শকদের সচেতন করার বিষয়টাই জোরদার ভাবে করতে চাই।’
এদিকে ভিডিও লাইভে নিজ নিজ দর্শকদের সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়েছেন আরেফিন শুভ। দেশের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক নিজ ঘরে নয়। নিজের গাড়িতে চেপে ফেসবুক লাইভে আসেন। আরেফিন শুভ বলেন, ‘আমি শুধু বলতে চেয়েছি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোথাও না বের হতে। তবে অনেকের পক্ষেই একেবারে গৃহবন্দী থাকাটা কষ্টের। সেক্ষেত্রে তাদের সঠিকভাবে প্রকেকশন নিয়েই বের হবার আহবান করেছি।
উল্লেখ্য, আরেফিন শুভ বঙ্গবন্ধু’'র বায়োপিক সিনেমা ছাড়াও ছয়টি ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। যা আগামী মসের ভেতরে শুটিং এর বিভিন্ন শিডিউল ছিল। কিন্তু সবকিছুই পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এই করোনা সংকটকে মাথায় রেখে।
দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় গায়িকা ন্যান্সি ফেসবুক লাইভে করোনায় কী করণীয় তার জানিয়ে ভক্তদের সচেতন করেছেন। ন্যান্সি বলেন, ‘নিজের সতর্কতা-ই যেখানে বড় সেখানে আমি চেয়েছি আমাকে যারা ভালোবাসে, ফলো করে তাদেরকে সতর্ক করতে।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সংগীত পরিচালক ফুয়াদ আল মুকতাদির সাধারণত ফেসবুক লাইভে আসেন না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার কথা জানিয়ে বাংলাদেশে তার ভক্ত দর্শকদের সচেতন করতে লাইভে এসে পরামর্শ দেন। ফুয়াদ আল মুকতাদির বলেন, ‘এটা আমি মনে করি প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। অনেকেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কিন্তু অযথা আতংক না ছড়িয়ে আমি বলবো যার যার অবস্থান থেকে বিষয়টি সহজ করে বললে যদি আমার একজন শ্রোতাও সতর্ক হয় তবে সেটাই আমার সামাজিক দায়িত্বপালন বলে মনে করি।’
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিনেতা টনি ডায়েসও তার ফেসবুকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে করোনা নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
নিজ গৃহে আইসোলেশনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দুই জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও অণিমেষ আইচ। তারা দুজনেই এই সময়টাই লেখালেখি , বই পড়া ও নেটফ্লিক্সে মুভি দেখে সময় কাটাবেন বলে জানান। অনিমেষ আইচ এই সময়ে কী ধরণের ছবি দেখবে জানতে চেয়ে ফেসবুকে পরামর্শ চেয়েছেন।
সারাদেশে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে তেমনি সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পেশাদারিত্বেও জায়গাটা। তারকা শিল্পীরা হয়তো এক দুমাস ঘরে বসে থাকলেও আর্থিক সঙ্কটে পড়বেন না। কিন্তু একটি নাটক, সিনেমা বা গানের শিল্প শুধু তারকাদের নিয়েই তৈরি হয় না। সেক্ষেত্রে প্রডাকশনের অন্যান্য কর্মীরা যারা অনেকটা দিনমজুর হিসেবেই কাজ করে থাকেন তাদের কথা ভেবে অনেকেই চিন্তিত। এখন তাদের ব্যাপারে স্ব স্ব সংগঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন অনেকে।