সাতকানিয়ায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ

ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে উদ্যোগ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরিষা, যব, ভুট্টা ও সয়াবিন জাতীয় শস্য অন্যতম তৈলবীজ হিসেবে চাষ করা হয়। এ বছরের পাশাপাশি আরেকটি তৈলবীজের সম্ভাবনা দেখছেন সাতকানিয়াবাসী। সম্ভাবনার এ তৈলবীজ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের বীজ। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিস পরীক্ষামূলক সূর্যমুখী ফুল চাষ শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এ তৈলবীজ চাষে এগিয়ে আসেন সাতকানিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড সামিয়ার পাড়া এলাকার আবু সাঈদ তালুকদার। আবু সাঈদ তালুকদার জানান, বিগত দুই বছর আগে সরকারিভাবে এসএমইর আওতায় চট্টগ্রামের কৃষি উপপরিচালকের কার্যালয়ে তেল, ডাল ও মশলা জাতীয় কৃষিপণ্য উত্পাদনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ঐ প্রশিক্ষণে উপরোক্ত কৃষিপণ্য উত্পাদনের জন্য কৃষি অধিদপ্তর পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নেয়।

প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা প্রশিক্ষণার্থী কৃষকদের তেল, ডাল ও মশলা উত্পাদনে উত্সাহিত করেন। আমি প্রথমে কৃষি অফিস প্রদত্ত ভিত্তিবীজ দিয়ে সরিষা বীজ উত্পাদন শুরু করি। পরবর্তীতে সাতকানিয়া কৃষি কর্মকর্তাদের উত্সাহ ও সহযোগিতায় সূর্যমুখী ফুলের বীজ উত্পাদন শুরু করি। এটা সূর্যমুখী বীজ উত্পাদনে আমার প্রথম চাষ। প্রাথমিকভাবে ৪০ শতক বা ২ কানি সূর্যমুখী চাষ করেছি। তিনি আরো জানান, দুই কানি জমির সূর্যমুখী থেকে ১ হাজার কেজি বীজ উত্পাদন হবে।

জানা যায়, প্রতি কেজি সূর্যমুখী বীজ থেকে ৩৫০ গ্রাম তেল উত্পাদন করা যায়। প্রতি কেজি সূর্যমুখী তেলের বাজারদর ৫০০ টাকা। বাজারে প্রচলিত অন্য তেলের তুলনায় সূর্যমুখী তেলের দাম অনেক বেশি। আবার প্রচলিত অন্যান্য তেলের চেয়ে গুণগত মানও সূর্যমুখী তেলের বেশি। সূর্যমুখী তেলের আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ তেল কোলস্টেরলমুক্ত এবং ভেজালের কোনো সুযোগ নেই।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী ফুল চাষে প্রতি কানি জমিতে সর্বমোট উত্পাদন খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। প্রতি কানি সূর্যমুখী তেল বীজের বর্তমান বাজারদর হিসেবে উত্পাদন খরচ পুষিয়ে পাঁচ গুণ লাভ পাওয়া যায়।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জহির ইত্তেফাককে বলেন, নিরাপদ ভোজ্যতেল হিসেবে সূর্যমুখী তেল অদ্বিতীয়। সে কারণে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রদর্শনীমূলক চাষ শুরু করা হয়েছে। অন্য কৃষকদের মধ্যে যাতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়, এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় ইত্তেফাককে বলেন, নিরাপদ ভোজ্যতেল হিসেবে সূর্যমুখী তেল ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য নোয়াখালী-ফেনী-লক্ষ্মীপুর-চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীমূলক সূর্যমুখী চাষে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এ প্রকল্প থেকে সাতকানিয়া প্রাথমিকভাবে দুই জন কৃষককে সম্পূর্ণ উত্পাদন খরচ দিয়ে চাষ শুরু করানো হয়েছে। সূর্যমুখী চাষের পরিধি বৃদ্ধির জন্য আগামীতে আগ্রহী কৃষকদের সরকার প্রদত্ত সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ এলাকার তুলনামূলক একটু উঁচু শ্রেণি ধানিজমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী।