প্রতিটি গ্রাম হবে শহর, থাকবে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা ----------পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ বরাবরই গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। স্বাধীন দেশে জাতির পিতা সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গিকার যুক্ত করেছিলেন। বর্তমান সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে এবং থাকবে উন্নত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা। মন্ত্রী বুধবার তাঁর নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনের জামুয়া, হাজতখোলা ও বাগমারা এলাকায় পথসভায় এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, গ্রামে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সরবরাহ আরও বাড়ানো ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্রুপভিত্তিতে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও সৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উত্সাহ ও সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র সেবা কেন্দ্র ও ওয়ার্কশপ স্থাপন করে যন্ত্রপাতি মেরামতসহ গ্রামীণ যান্ত্রিকায়ন সেবা সম্প্রসারণ করা হবে এবং এসবের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উত্পাদনশীল কর্মসংস্থান করা হবে। অ-কৃষি খাতের এসব সেবার পাশাপাশি হাল্কা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি সেবা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ জোর দিচ্ছে নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা, গ্রামীণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিত্সাসেবা সুলভ করার ওপর। এ জন্য দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রাপ্তি উন্নত করা হবে। এক বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের উপরে সকলকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা   প্রদান করা হবে। সকল বিভাগীয় শহরে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হার্ট, ক্যান্সার ও কিডনি চিকিত্সা চালু করা হবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে অন্তত ১০০ শয্যার ক্যান্সার ও কিডনি চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করা হবে। গ্রামাঞ্চলের চিকিত্সা কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সকের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেবার মান বৃদ্ধি এবং উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। উন্নত রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুত গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধাদি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। পথসভায় সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।