তবুও আয়োজন নিয়ে সংশয় কাটছে না

জাপানে এলো অলিম্পিক মশাল

স্পোর্টস ডেস্ক

টোকিও অলিম্পিক সময়মতো হবে কি না, এমন সংশয়ের মধ্যেই গতকাল শুক্রবার গেমস মশাল গ্রিস থেকে জাপানে এসে পৌঁছায়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে মশাল গ্রহণের অনুষ্ঠানটি সংক্ষেপিত ছিল।

মশালটি ‘টোকিও ২০২০ অলিম্পিক টর্চ রিলে’ লেখা সাদা রংয়ের এক বিমানে করে গ্রিস থেকে উত্তর জাপানে এসে নামে। আয়োজক কমিটির সদস্যদের ছোটো এক দল এটিকে টারমাকে গিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। জাপানের সবচাইতে খ্যাতিমান দুই অলিম্পিয়ান তিন বার কুস্তিতে সোনাজয়ী সাওরি ইয়োশিদা এবং তিন বারের জুডো চ্যাম্পিয়ন তাদাহিরো নোমুরা বিমানের ভেতরে গিয়ে মশালটি নিয়ে আসেন। পরে অবশ্য এখানেও মশাল প্রজ্জ্বালন করা হয়।

আগামী এক সপ্তাহ মশালটি উত্তর জাপানে থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ ফুকুশিমা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মশালটির চার মাসব্যাপী জাপান প্রদক্ষিণ শুরু হবে। যদিও জাপানের বার্তা সংস্থা কিওডো গত সোমবার এক জরিপের ফল প্রকাশ করে। এতে দেখা যায় ৬৯.৯ শতাংশ জাপানিই মনে করে করোনা ভাইরাসের অলিম্পিক আসরটি সময়মতো শুরু হবে না।

টোকিও অলিম্পিক ২৪ জুলাই শুরু হওয়ার কথা। জাপানের আয়োজক কমিটি এবং আইওসি (ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি) এখনো এটি পূর্বসূচি অনুযায়ী আয়োজনের ব্যাপারে আশার্বাদী। ইতিপূর্বে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। আরো অনেকেও চান গেমসটি স্থগিত কিংবা বাতিল করা হোক।

এর মধ্যে গতকাল জাপানের অলিম্পিক কমিটিরই এক সদস্যা কাওরি ইয়ামাগুছি গেমসটি স্থগিত রাখা দরকার বলে মত দিয়েছেন। সাবেক জুডো অ্যাথলেট গত বৃহস্পতিবারই বলেন যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের এই সময়ে আইওসি অনুশীলন ও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে বলে ‘অ্যাথলেটদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।’

গত বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বৈশ্বিক এই মহামারিতে আড়াই লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ২৫৪ জন। বিংডটকম এ পরিসংখ্যান জানায়।

জাপানি এই সংগঠকের মতে, ‘খেলা বিশ্বে শান্তি বয়ে আনে, অলিম্পিক সে আদর্শকেই প্রতীকীভাবে হাজির করে। সারা দুনিয়ার মানুষ যদি ব্যাপারটা উপভোগ করতে না পারে, তাহলে আমাদের উচিত হবে না এটি (অলিম্পিক) আয়োজন করা।’

যুক্তরাষ্ট্রে সবধরনের খেলার আয়োজন এখন বন্ধ কিংবা স্থগিত আছে। ইউরোপ ও এশিয়াজুড়েও ভরা ফুটবল মৌসুমের সব লিগ বন্ধ। তার মধ্যেও আইওসি অ্যাথলিটদের গেমসের জন্য অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু কাওরি ইয়ামাগুছি মনে করেন অ্যাথলেটদের স্বাভাবিক অনুশীলন অব্যাহত রাখার মতো পরিস্থিতি এটা নয়।