মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
নদীর গতিপথ (নাব্যতা) ফিরিয়ে আনতে এবং জলপথে যোগাযোগ সুবিধাসহ নদী দূষণমুক্ত করতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় চলছে ড্রেজিং (খনন কাজ)। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খননের কাজ করছে বলে সোমবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২২ কিলোমিটার নদী খননের প্রায় ৫০-৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বঙ্গ ড্রেজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সরকার এবং কবির সিকদার জানিয়েছেন। বুধবার বংশাই নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে খনন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (অফিস) সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নতুন ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) (২য় সংশোধিত)-শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বংশাই নদীতে ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী ও ঢাকা জেলা অংশের যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী ও বুড়িগঙ্গা নদী প্রকল্পের বংশাই নদীর কালিয়াকৈর উপজেলার সুত্রাপুর থেকে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এলাকায় নদী ড্রেজিং (খননের কাজ) চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বঙ্গ ড্রেজিং কোম্পানি (লি.) চেইনেজ কিলোমিটার ৬৭ থেকে চেইনেজ ৮৭ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার বংশাই নদীর খনন কাজ করছেন। খনন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা। গত ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। নদীর খনন কাজের সময় তলদেশে প্রস্থ ৭২ মিটার, পারস্লোপিং ২৫ মিটার, গভীরতা ৪ মিটার থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত কাজ হচ্ছে বলে খনন কাজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের নদ-নদী এবং খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড় রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং মানব বর্জ্য থেকে নদী দূষণমুক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে মির্জাপুরে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বংশাই নদীর ড্রেজিং (খনন কাজ) হচ্ছে। খনন কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। পর্যায়ক্রমে বংশাই নদীর বিভিন্ন এলাকায় পুরো নদী খনন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।