মহাজোটের ৫ প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল রইল

প্রার্থিতা বহাল রইল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট মনোনীত পাঁচ প্রার্থীর। তাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা পৃথক পাঁচটি রিট আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেনন, ঢাকা-৭ আসনে হাজী মোঃ সেলিম, ঢাকা-১৭ আসনে আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), জামালপুর-১ আসনে আবুল কালাম আজাদ ও বরিশাল-৪ আসনে পংকজ দেবনাথের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা রইল না।

এ দিকে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়েছেন বিএনপি মনোনীত আরো তিন প্রার্থী। এরা হলেন— গাইবান্ধা-৪ আসনে ফারুক কবির আহমদ, নরসিংদী-৩ আসনে মঞ্জুর এলাহী এবং নাটোর-৪ আসনে মোঃ আব্দুল আজিজ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাটোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং নরসিংদী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা হাইকোর্টে তাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করেন।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়েছেন বিএনপির ১৬ জন প্রার্থী। প্রার্থিতা হারানোর ফলে এ সব আসনে বিএনপির মনোনীত কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করতে পারছেন না। তাদের প্রার্থিতা হারানোর পেছনে দণ্ডিত হওয়া, ঋণ খেলাপি, পৌর-মেয়র  ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পর তা গৃহীত না হওয়া এবং চাকরি থেকে অবসরের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়াটা ছিল উল্লেখযোগ্য কারণ।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, হাজী মোঃ সেলিমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট করেন ঢাকা-৭ আসনের ভোটার মরণ কুমার দাস। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই মর্মে প্রার্থিতা বাতিল চাওয়া হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পরিবর্তে একজন ভোটার এ রিট করায় আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়েছে।

বরিশাল-৪ আসনে পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে রিট করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাহবুবুল আলম। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে পংকজ দেবনাথ দুর্নীতির মামলা হতে খালাস পাওয়ায় হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেননের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি এ রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। ঋণ খেলাপির অভিযোগে ঢাকা-১৭ আসনে আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম শুনানি করেন। শুনানি শেষে আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়।

এ ছাড়া জামালপুর-১ আসনে আবুল কালাম আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট করেন বিএনপি নেতা রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। এমপি পদটি লাভজনক বিধায় ওই পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে এ রিট করা হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। দণ্ডিত হওয়ায় হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইতোমধ্যে সুযোগ হারিয়েছেন মিল্লাত।

এ দিকে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী একেএম আব্দুল মোমেন। ঋণ খেলাপির অভিযোগ আনা হয় বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। কিন্তু হাইকোর্ট রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি মিল্লাতের ছেলে

রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর জামালপুর-১ আসন হতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তার ছেলে শাহাদাত বিন জামান। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ইসির পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেয়। এ ছাড়া দিনাজপুর-৩ আসনে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও রংপুর-৫ আসনে মোফাখখারুল ইসলাম খানের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।