ডা. মো. আবদুর রহমান
বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। প্রাণী থেকে আসা এই ভাইরাস এখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে। মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে, সঙ্গে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে করোনা ভাইরাসটিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এখন পর্যন্ত ১৫৭টি দেশ সংক্রমিত। আক্রান্তের সংখ্যা এবং তত্সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। ভাইরাসটির বয়স মাত্র আড়াই মাস। এর চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে এখনো সম্যক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ভাইরাসটি হাঁচি, কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। যখন কোনো সুস্থ লোক আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির সংস্পর্শে আসে, তখনই তার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো—জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও অবসাদ। তবে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে ১৪ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। এই সময়ে ঐ ব্যক্তি যত জনের সংস্পর্শে আসবে, নিজে অসুস্থ না হয়েও অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়াতে থাকবে।
বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। চীন বা অন্যানা দেশের মতো রাতারাতি বড়ো বড়ো হাসপাতাল বানানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বা খোলা জায়গার দরকার, তার কোনোটাই আমাদের নেই। তাছাড়া করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার মতো যন্ত্রপাতিও অপ্রতুল, তাই সাবধানতাই আমাদের একমাত্র সম্বল। বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে ঢুকছেন, তাদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বাড়ি পাঠাচ্ছে, তাদের উচিত বাড়ি গিয়ে নিজে থেকে দায়িত্বশীল হওয়া। নিজের ঘরে আবদ্ধ (Quarantine) থাকা কোনো কঠিন বা অসম্মানজনক কাজ নয়। ভেবে দেখতে হবে, যিনি বিদেশ থেকে আসছেন তিনি নিজে আক্রান্ত কি না। ১৪ দিনের আগে তা বুঝতে না-ও পারেন। এই ১৪ দিনের মধ্যে তিনি নিজের পরিবারের বা আশপাশের কত জনকে আক্রান্ত করেছেন তার হিসাব কে দেবে? তাই আমাদের সবাইকে ভীষণভাবে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসনেও বলা আছে—নিজে বাঁচো, প্রতিবেশীকে বাঁচাও। করোনা মহামারি দেখা দিয়েছে, কোথায় গিয়ে শেষ হবে আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। আসুন আমরা সচেতন হই, সতর্কতা অবলম্বন করি, সবাই নিজ তাগিদে নিজেদের রক্ষা করি।
সন্দেহভাজন যে কোনো ব্যক্তি নিজেকে ১৪ দিন ঘরের মধ্যে আবদ্ধ (Quarantine) রাখি। বাংলাদেশে আমাদের জনগণের অসতর্কতা বা অবহেলার জন্য যেন করোনা মহামারি না দেখা দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের যে কোনো নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করে নিজের পরিবার তথা দেশবাসীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করি। সবাই মিলে করোনা মহামারিকে প্রতিরোধ করি। নিজে বাঁচি, দেশকে বাঁচাই।
জাপানের ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন যে ঘন ঘন পানি পান করে মুখের ভেতরে ভেজা রাখলে ভাইরাসটি মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে ফুসফুসে যেতে পারবে না। পানির সঙ্গে পাকস্থলীতে চলে যাবে এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড ভাইরাসটিকে মেরে ফেলবে।
যেখানে-সেখানে কফ, থুথু ফেলা যাবে না। করোনার ঝুঁকি বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি। ওনারা ভিড় এড়িয়ে চলবেন। ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা যে কোনো ভাইরাস সংক্রমণে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের সচেতন হতে হবে।
n লেখক :সাবেক পরিচালক, নিপসম ও সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, পাবলিক হেল্থ ও ইনফরম্যাটিকস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা