নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার এককভাবে কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। গতকাল দুপুরে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এরপর বিকালে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করে।
সাক্ষাত শেষে এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশন মানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার কমিশনার। সকলে মিলে বিবেচনা করবেন সেটি। কোন বিশেষ একজন কমিশনার ভিন্নভাবে কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না। দেওয়া উচিতও নয়। এটি মানুষের মনে দ্বিধার সৃষ্টি করে,অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।
একজন কমিশনার ব্যক্তিগত মত দিতে পারেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট দিতেই পারেন, তবে সেটা পাবলিকলি নয়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, প্রতিটি কমিশনের মূল আইন হচ্ছে একজন কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দেশনা দিতে পারেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই সবকিছু হয়। কমিশন যদি তাকে ক্ষমতা দিয়ে থাকে এটা আমাদের জানা নেই।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ, হামলার বিবরণ ইসির কাছে দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান এইচটি ইমাম। সিইসির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বাকবিতন্ডা প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, আমরা বারবার বলছি নির্বাচন কমিশনকে ভালোভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক। সরকারি দল হিসেবে নির্দেশ না দিয়ে কমিশনের কাছে আসি বারবার। সকলেরই তাই করা উচিত। নির্বাচন কমিশনই আমাদের ভরসাস্থল। এই জিনিসটা অনেকে পালন করেন না।
তিনি বলেন, সুস্পষ্ট প্রস্তাবের মধ্যে যান চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল করতে বলেছি। সাংবাদিকদের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনুমতির কথা বলেছি। সাংবাদিকদের যেন বিঘ্ন না ঘটে। প্রার্থী ও দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য যান চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় চেষ্টা করে এসেছে নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করতে হলে অর্থ ও পেশি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সর্বাত্মক ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত, তারা বিষয়টি দেখভাল করবে। অর্থের অনেক চালানের মধ্যে একটি ধরা পড়েছে। কালো টাকার প্রভাবের বিষয়ে বলেছি। নির্বাচনের দিন, অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করার বিষয়ে কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। বেশ কয়েকটি এনজিওর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান এইচটি ইমাম। তিনি বলেন, ১১৯টির মধ্যে ৭৫টি সংস্থা এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত। বাকিগুলোর নিবন্ধন নেই। অ্যানফ্রেলের লোকাল চ্যাপ্টার অধিকার। তাদের জন্য এত মাথাব্যাথা কেন? অধিকার নিবন্ধিত নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেট নজিবুল্রাহ হিরু, অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।