অনল চৌধুরী
করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীর ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বাংলাদেশেও যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে, তাতে আর বিচিত্র কী? বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি হয় এমন দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে থাকায় অনেক দেশ ৭৯০ কোটি টাকার তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি আদেশ বাতিল করেছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কয়েক লাখ লোক অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সেসব দেশ থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ হ্রাস, বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিমান খাতও পড়বে লোকসানের মুখে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতাসাধন এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যেমন:
১. খাদ্য সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রতি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিতে দ্রুত ধান, গম, আলু, ভুট্টা ইত্যাদি কৃষি ফসল এবং শাকসবজি উত্পাদন শুরু করতে হবে।
২. গ্রীষ্মকালে দিনের আলো ব্যবহার এবং বিদ্যুতের অপচয় রোধে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার ঘড়ির কাটা ১ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার মতো ডে-লাইট সেভিং পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।
৩. সকল প্রতিষ্ঠান, বিপণী বিতান ও কারখানা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা।
৪. বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যবহূত তেল ও গ্যাসের অপচয় রোধে সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ এবং রেফ্রিজারেটর ও এসির ব্যবহার পরিমিত করা।
৫. কম ব্যয়ের বায়ুকল এবং সৌর বিদ্যুত্ উত্পাদনে গুরুত্ব দেওয়া এবং এভাবে উত্পাদিত বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা।
৬. বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত রাখা।
৭. প্রতিদিন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতি পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া।
৮. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য খাদ্যশস্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম এবং জরুরি পণ্য ছাড়া সমস্ত অপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রসাধনী ও বিলাসসামগ্রীর আমদানি বন্ধ করা।
ঢাকা