অণুগল্প

আয়না

নাসরীন মুস্তাফা

 

আয়না সামনে দাঁড়ানো নারীকে দেখে ভাবে, কী জানতে চাইবে এ?

‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী কে, বলো তো আয়না’ টাইপের ন্যাকা প্রশ্নের উত্তরে আয়নাকে বলতে হবে, তুমি ছাড়া আর কে?

না, নারী কিছুই জানতে চায় না। কেবল আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে। হয়তো আয়নার ভেতরে দেখে। কী দেখে, আয়না তা দেখে না। তাই বুঝতেও পারে না।

নারী দেখে আয়নার ভেতরে গলা, কাঁধ, কাঁধের নিচে খোলা দুই স্তন, স্তনবৃত্ত। ঠিক এই ফ্রেমে দেখা ছবিটা জেগে ওঠে মগজে, যা সে দেখেছিল কাল। কোথায় দেখেছিল? নারীর একান্ত পুরুষের গুগল মেইল থেকে জমা হওয়া গুগল ফটোজের ফোল্ডারে, সংরক্ষিত আকারে।

ভিডিও কল। এপাশে নারীটির পুরুষ। ওপাশে নারীটি নয়, অন্য এক নারী। বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা নারী টের পায় না, তার পাশে শুয়ে থাকা মাঝ রাত অবধি স্মার্টফোনে ব্যস্ত পুরুষটি ওপাশে অন্য নারীর ভিডিও কলে দেখে তার খোলা গলা, কাঁধ, কাঁধের নিচে খোলা দুই স্তন, স্তনবৃন্ত। ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় স্ক্রিনশট জমা হয়ে যায় গুগল ফটোজের ফোল্ডারে। ৮ নভেম্বর, ফটোর গায়ে সেঁটে থাকা তারিখ অট্টহাসি দিয়ে জানিয়ে দেয়, কয়েক মাস আগে ঘটে গেছে মঞ্চায়ন। বোকা নারী আজ দেখে তার ছায়া।

আজও কি দেখত সে? বিয়েবার্ষিকীতে নীল জামদানি যে পরেছিল, তার ছবি খুঁজতে গিয়েই না দেখল ভিডিও কলের ছোটো ইনশটে নারীর নিজস্ব ঘরের জানালার পর্দা। ফটো জুড়ে আর আছে আরেক নারীর খোলা গলা, কাঁধ, কাঁধের নিচে খোলা দুই স্তন, স্তনবৃন্ত। ঠিক এখন যেমন দেখছে আয়নার গভীরে।

দেখতে চায় না বলে চরম আঘাত হানে আয়নার গায়ে। বেচারি ভেঙে পড়ে। গুঁড়িয়ে যায়। টুকরো টুকরো হতে হতে ধারালো অস্ত্র হয়ে যায়।

নারী মাটিতে গড়িয়ে পড়তে পড়তে লাল রক্তের নদী হয়ে যায়। তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকে কাচের দ্বীপ-বদ্বীপ-দেশ-মহাদেশ—গোটা পৃথিবী।