ঢাকার নবাবগঞ্জে নিজ উদ্যোগে মিশ্র খামার করে অল্প সময়ের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনুপম দত্ত নিপু নামে এক উদ্যমী যুবক। উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের বাসিন্দা সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত ও প্রাক্তন শিক্ষিকা স্বপন রানী বকসীর একমাত্র সন্তান নিপু। প্রায় ৫ বছর আগে ভাওয়ালিয়া বিলে একটি পুকুর নিয়ে তার খামারের যাত্রা শুরু। আজ এই খামারে হাস-মুরগি, গরু-ছাগল, মাছ পাশাপাশি উত্পাদন করা হচ্ছে। পুকুরপাড়ে হচ্ছে পেঁপে, লেবু, কলা, ধনেপাতার চাষ। উঁচু ভিটায় লাগানো গাছে ফলছে লিচু ও আম। এখন খামার থেকে প্রতিমাসে বেশ ভালোই আয় করছেন নিপু। তাঁর পরিবার হয়ে উঠেছে স্বচ্ছল। নিপুর সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও খামার প্রতিষ্ঠায় উত্সাহী হয়ে উঠেছেন।
নিপু জানান, ২০১৫ সালে লেখাপড়া শেষ করে বেকার জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের বেশ কিছু কৃষিজমি পতিত ছিল। সে বছর ডিসেম্বরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে নেওয়া এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ১ একর জমিতে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেন নিপু। এতে তার ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। পরের বছর এক লাখ টাকা দিয়ে ধানের স্কিমের একটি সেচ পাম্প কেনেন এবং পুকুর পাড়ে মিশ্র ফল বাগান করে লাভবান হন।
২০১৭ সালে পরিবারের দেড় একর কৃষিজমিসহ পার্শ্ববর্তী আরো সাড়ে ৩ একর জমি লিজ নিয়ে ধান রোপণ করেন। সাথে নিচু জমিতে ধান ও পোনা মাছ চাষ করা হয়। সে বছর মাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ও ধান থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। এরপর ২০১৮ সালে ব্র্যাক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। খামার সম্প্রসারণ করতে পুকুর পাড়ে ডিম ও মাসের হাঁসের শেড, রাম ছাগল ও তোতাপূরী ছাগলের শেড তৈরি করেন। ২০১৯ সালে ১ হাজার হাঁসের শেড ও তিন হাজার ধারণ ক্ষমতার মুরগির শেডসহ গরুর শেড তৈরি করেন। তিনি জানান, এবছর বোরো মৌসুমে তিনি আড়াই একর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এছাড়াও তিনি অন্যের আরো ১০ একর ধানি জমিতে দুটো সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি দিচ্ছেন। এতে তিনি ঐ জমির মোট ধান উত্পাদনের চার ভাগের এক ভাগ ধান পাবেন।
বর্তমানে তার খামারে মাংস উত্পাদনের জন্য ৫ হাজার সোনালী মুরগী ও ৫০০ হাঁস রয়েছে এবং ডিম উত্পাদনের জন্য এক হাজার হাঁস রয়েছে। এছাড়া দুগ্ধ উত্পাদনের গরু ৫টি, মোটা তাজাকরণ গরু ৫টি, ছাগল ১২টি, খাসি ৭টি এবং ৩০টি রাজহাঁস রয়েছে। খামারে সাড়ে ৫ একরের তিনটি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। আরো দেড় একর জমির তিনটি পুকুর খননের কাজ চলছে। নিপু গর্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘মিশ্র খামার বেশ লাভজনক। মাছের পুকুরের ওপর নির্মাণ করেছি হাঁসের খামার। একদিকে হাঁস থেকে পাচ্ছি ডিম ও মাংস, অপরদিকে হাঁসের বিষ্ঠা পুকুরে থাকা মাছের খাবারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এই খামারে এখন ৮-১০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, মিশ্র খামার অনেকটাই লাভজনক। কম পুঁজিতে এই খামার করা যায়। এভাবে সবাই উদ্যোগ নিলে দেশের বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস অনুপম দত্ত নিপুর খামারের নিয়মিত তদারকি করছে। আমাদের মাঠ কর্মীরা সময় মতো ভ্যাকসিন প্রদানসহ তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন।