আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদি ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম সরাবদী। এ গ্রামটি এরই মধ্যে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের শতাধিক কৃষান-কৃষানি শাকসবজি, টম্যাটো, বেগুন, লাউ, শিম, মিষ্টি কুমড়া, আলু, ধনেপাতা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছে।
সরাবদী গ্রামের কৃষক মো. শফিকুল আট বছর আগে আড়াইহাজারে সাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আবদুল কাদিরের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় প্রথমে এক বিঘা জমিতে লাউ এবং দুই বিঘা জমিতে টম্যাটো চাষ করে দেড় লক্ষাধিক টাকা লাভ করেন। এরপর থেকে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শফিকুলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এখন এ গ্রামের শতাধিক কৃষক ধান, পাট ও গমের পরিবর্তে মৌসুমি সবজি চাষ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অনেকে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিরাপদ গুণগত মানসম্পন্ন সবজি চাষ করার মাধ্যমে সংসারে সচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানান, মুজিব জন্মশতবর্ষ ২০২০ উপলক্ষ্যে তাদের অন্যতম কর্মসূচি হলো প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে নিরাপদ সবজি গ্রাম সৃষ্টি করা, আর নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সেরা নিরাপদ সবজি গ্রাম হলো সরাবদী।
নিরাপদ সবজি চাষে এ গ্রামের কৃষকেরা রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার যেমন: গোবর কম্পোস্ট, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, খামারজাত সার, সবুজ সার, ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট উত্পাদন করে সবজির জমিতে ব্যবহার করছেন। পোকা দমনে তারা ব্যবহার করছেন হাত জাল, সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ।
খেতের বিভিন্ন পোকা দমনে কৃষকেরা জৈব বালাইনাশক বায়োম্যাক্স, কিউ ফেরো, বিএসবি ফেরো, ফুজি লিউর, কিউ লিউর, ইকোমেক, ফাইটোম্যাক্স ব্যবহার করছেন। সরাবদী গ্রামের নিরাপদ সবজি স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটে যাচ্ছে এবং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
এই গ্রামের সবজি দেখতে আকর্ষণীয়, সবল, সতেজ এবং স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় এর বাজার মূল্যও বেশি। সরাবদী গ্রামে সপ্তাহে একদিন প্ল্যান্ট ডক্টর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আকতারের নেতৃত্বে এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহযোগিতায় প্ল্যান্ট ডক্টর ক্লিনিকে ফসলের পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ, রোগ ও পোকা আক্রান্ত লতাপাতা, ফল দেখে রোগ ও পোকামাকড় সনাক্ত করে কৃষককে সরাসরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, নিরাপদ সবজি গ্রাম সরাবদীতে আএফএম কৃষক সংগঠন আছে, সংগঠনের বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি আছে। তাদের সংগঠনে ৫ লাখ টাকার মতো মূলধন আছে এবং সদস্যদের মধ্যে তারা স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানও করে থাকে। সংগঠনটি প্রতি বছর কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ খেলাধুলা, গান, নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষির আধুনিক কলাকৌশল ও প্রযুক্তি কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।