দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার কারণেই আক্রান্ত হচ্ছে এসব মানুষ। বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তারা তা মানছেন না। দেশে ফিরেই স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মিশছেন। এর ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। ঐ আইনে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পশাপাশি দণ্ডবিধির দুটি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিদেশ ফেরতদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখের ওপর মানুষ। মারা গেছে ১০ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন এক লাখের মতো মানুষ। এ অবস্থায় করোনার হাত থেকে নিজ নিজ দেশের জনগণকে রক্ষা করতে সরকারপ্রধানরা ‘কোয়ারেন্টাইন’, ‘আইসোলেশন’ ও ‘লক ডাউন’সহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নিষেধ করেছেন গণজমায়েত। কোনো কোনো দেশে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ‘সঙ্গ নিরোধ’ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক এ অবস্থায় গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হওয়া তিন জনের কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গত দুই সপ্তাহে এই সংখ্যা ২০ জনে পৌঁছায়। এদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা মোকাবিলায় এ সংক্রান্ত আইনটি প্রয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। ঐ আইনে ২৩ ধরনের সংক্রামক রোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত রোগের কথা সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা উল্লেখ করতে পারবে।
ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ‘করোনা ভাইরাস’ রোগটি এই আইনের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশ করতে স্বাস্থ্য সচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান এ বিষয়ে রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। তিনি বলেন, ঐ আইন ছাড়াও দণ্ডবিধির ২৬৯ ও ২৭০ ধারায় জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। আইনের এসব বিধান প্রয়োগ করা দরকার। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন আক্রান্ত দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা দেশে এসে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই কর্মকাণ্ড দেশ ও জাতিকে মহাদুর্যোগের মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ল’ রিপোর্টস এর সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা দরকার। যদিও আইনে কিছু ঘাটতি রয়েছে, সেটা সংশোধন করা জরুরি। তিনি বলেন, বিদেশফেরত অনেকেই এই ভাইরাস বহন করছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরা যাতে ঘুরে বেড়াতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হওয়া দরকার।