সহস্র যুগের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা তুমি
কভু যদি শুকিয়েও যায় পদ্মা মেঘনা, বহমান গৌরী যমুনা
তবুও রবে তুমি, মুজিব শুধু তুমি
মুজিব মানেই আত্মবিশ্বাস, প্রেয়সী নারীর ভালোবাসার নীরব বলিদান
মুজিব মানেই কারাবন্দি পিতা, অপত্যস্নেহে গুমরে মরে যাঁর সকরুণ আর্তনাদ।
মুজিব মানেই ৭ই মার্চ, রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হওয়া উত্তাল জনসমুদ্র,
মুজিব মানেই জাগ্রত জনতা, যারা প্রত্যেক ঘরে ঘরে গড়ে তোলে দুর্গ।
মুজিব মানেই ১৭ই মার্চ, টুঙ্গিপাড়ায় সোনার বাংলার পরিত্রাতার জন্মগ্রহণ
মুজিব মানেই ২৬শে মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ।
মুজিব মানেই লক্ষ নবীন যুবা, বাংলার তরে প্রাণ দিতে দ্বিধা করেনি যারা
মুজিব মানেই ১৬ই ডিসেম্বর, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া
মহান মুক্তির সংগ্রাম, ৭১-এর বিজয়ের গৌরবগাথা।
মুজিব আমার কিশোরবেলা, সবুজ ধানের খেতে বাতাসের ঢেউ তোলা,
মুজিব আমার ছোট্ট সুখের ভেলা, তালের ডিঙ্গিতে চড়ে আপন মনে ভেসে চলা
মুজিব আমার রূপসী-বাংলা, মধুমতি-ধানসিঁড়ি-কীত্তনখোলা—
মুজিব আমার মাঠের গল্প, সোনালি ধানে ভরা কৃষকের গোলা,
মুজিব আমার নবান্নের উত্সব, ঢেঁকিতে চিঁড়ে কোটা বউটির হাসি মুখখানা
মুজিব আমার অমর একুশে, মায়ের মুখের বুলি বাংলা বলার স্বাধীনতা
মুজিব আমার ঘুমন্ত বাঙালির রক্তে ভেজা কালো পঁচিশ—
পাকবাহিনীর বর্বর হামলায় অসংখ্য তাজা প্রাণ একটি রাতে ঝরে যাওয়া
মুজিব আমার স্বাধীন বাংলাদেশ, লাল-সবুজে বাঙ্ময় উড্ডীন পতাকা।
আজো খুঁজে ফিরি মুজিব তোমায়, শুধু একবার পেতাম যদি খুঁজে।
বলতাম তোমায় একটিই কথা, জানো কি মুজিব? আজো বাঙালি তোমার তরে কাঁদে।
এখনো বসুমতি রয়েছে তেমনি সবুজে শ্যামলে শস্য সুফলা
বসুন্ধরা আজো বীরভোগ্যা, হচ্ছে কত নতুন বীরের জন্ম,
যেমনি আগেও হয়েছে লোরকা, লেনিন, পিকাসো, নেতাজী আরো কত শত।
প্রকৃতির নিয়মেই চলবে পৃথিবী, চলে যাব আমি, আসবে নতুন মুখ
তাকেও বরণ করবে ধরিত্রী, পরম মাতৃস্নেহে করবে লালন।
আমি মনে মনে ভাবি, এ অবনী পরে আর কভু কি হবে দ্বিতীয় মুজিবের জন্ম?
জানি হবে না, কখনো হতেই পারে না নব্য মুজিব কোনো—
শুধু জানি, এ ধরণীতে তবু রয়ে যাবে একটি মুজিব, একটি বাংলাদেশ,
অসংখ্য নদী, গাছপালা, অগণিত পাহাড় ফুল-পাখি-সমুদ্র—
আরো রয়ে যাবে কোটি প্রাণে প্রাণে মুজিবসেনা হওয়ার স্বপ্ন
স্কেচ :গোলাম সারোয়ার