কড়া নিরাপত্তায় রোমানদের অনুশীলন

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাস-আতঙ্কে থমকে আছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন। তবে বাংলাদেশ আর্চারি দলের এখনো দম ফেলার ফুরসত নেই। রোমান সানাসহ ৩০ জন তীরন্দাজ নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে টঙ্গীর শহিদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে। সেখানে থেকেই জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডেরিখের নির্দেশনায় নিয়মিত অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিয়ে চলেছেন আর্চাররা।

এমন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রোমানদের অনুশীলনের বয়স প্রায় এক সপ্তাহ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের নির্দেশে আর্চার আর স্টাফ মিলিয়ে ৩৫ জনের বহরকে করোনা ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কোয়ারেন্টাইন-সদৃশ ব্যবস্থায় রাখা হয়। আহসানউল্লাহ স্টেডিয়ামে এরপর থেকে দলের সবার সময়টা কাটছে কেবল তীর-ধনুক নিয়েই।

লক্ষ্য অবশ্য নেহায়েতই করোনা থেকে রক্ষাই নয়। আসছে জুলাই মাসেই অলিম্পিক, যেখানে প্রথম বাংলাদেশি তীরন্দাজ হিসেবে সরাসরি উতরে গিয়েছেন রোমান। মূলত তাকে ঘিরেই অনুশীলনটা চলছে আর্চারি দলের। সেকথা গত ১৬ মার্চ ফেডারেশনগুলোর জরুরি বৈঠক শেষেই জানিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

বলেছিলেন, ‘অলিম্পিক গেমস স্থগিত হয়নি। রোমান সানা সেখানে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তার প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আর্চারি ফেডারেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে যেন হোম কোয়ারেন্টাইনের মতো পরিবেশ তৈরি করে সেখানেই প্রশিক্ষণ চালানো যায়।’

সূর্যোদয় থেকে শুরু করে গোধূলি পর্যন্ত চলে রোমানদের তীর ধনুকের খেলা। বাইরে থেকে কেউ আসা যেমন নিষিদ্ধ, কারো বাইরে যাওয়ায়ও আছে বিধিনিষেধ। কিছুটা একঘেয়ে নয় কি? এমন প্রশ্নের জবাবে রোমান সানা ইত্তেফাককে বললেন, ‘একঘেয়ে হলেও মেনে নিতে হবে। দিনশেষে প্রশ্নটা তো বাঁচামরার। এখানে বেশ নিরাপদ আমরা।’

অলিম্পিকের মাস তিনেক আগে পরিস্থিতিটা মোটেও এমন হবার কথা ছিল না। ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো এই আসরের আগে বেশি বেশি ম্যাচ পরিস্থিতিতে অনুশীলন আর টুর্নামেন্ট খেলতে চেয়েছিলেন রোমান। যার শুরুটা হতো চলতি মাসের শেষে বাংলাদেশ গেমস দিয়ে। করোনা পরিস্থিতিতে সব পরিকল্পনা গেছে ভেস্তে।

এ নিয়ে কিছুটা হতাশা থাকলেও অগত্যা নিবিড় অনুশীলনেই সে ঘাটতি পোষাচ্ছেন দেশসেরা এই আর্চার। রোমানের ভাষ্য, ‘আগের মতো সাত-আট ঘণ্টার অনুশীলন চলছে। কখনো কখনো এর চেয়েও কিছু বেশি। আপাতত নিয়মিত অনুশীলনেই অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

করোনা-আতঙ্কে অলিম্পিক নিয়েও আছে বেশ শঙ্কা। আয়োজকরা অবশ্য এখনো আশা ছাড়েননি। ফলে আর সব দেশের প্রতিযোগীদের মতো করে প্রতিযোগিতা যথাসময়ে হওয়ার হিসাব মাথায় রেখেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে দল, জানালেন রোমান। বললেন, ‘অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে জুলাই আগস্টের কথা মাথায় রেখেই অনুশীলন করছি আমরা।’

করোনা আতঙ্কে পুরো দেশই থরহরিকম্পমান। এমন অবস্থায় দেশবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আর স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি গুরুত্ব দেন দেশসেরা এই আর্চার। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘করোনা থেকে বাঁচতে এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানাটা আবশ্যক। রাখতে হবে সামাজিক দূরত্বটাও। সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’