বাফুফে নির্বাচন পেছাচ্ছে না

তপশিল ঘোষণা ৩ এপ্রিল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরোয়া খেলাগুলো বন্ধ রাখা হলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃশ্যত বদ্ধপরিকর। কারণ বাফুফের নির্বাচন কমিশন এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেও জানিয়েছে ৩ এপ্রিল নির্বাচনি তপশিল ঘোষণা করা হবে।

পূর্ব সূচি অনুযায়ী বাফুফের নির্বাচন হওয়ার কথা ২০ এপ্রিল। ইতিমধ্যে নির্বাচনটি স্থগিত করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়। তিনি অবশ্য এ নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীও।

বাফুফের তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গতকাল শনিবার তাদের প্রথম বৈঠক করে। এ সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ২০২০ বাফুফে নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রথম সভা করলাম। এখন পর্যন্ত ২০ এপ্রিলকে সামনে রেখে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৩ এপ্রিল শুক্রবার আমরা তপশিল ঘোষণা করব। এর আগে বাফুফে আমাদেরকে ভোটার তালিকা হস্তান্তর করবে।’

কমিশনের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করা হয়। তখন চলমান করোনা ভাইরাসের কারণে নাজুক পরিস্থিতির কথা জানতে চাওয়া হয়। এ ব্যাপারে মেজবাহউদ্দিন জানান, তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেছেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে বাফুফের নির্বাহী কমিটিই পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। ইতিমধ্যে সভা সমাবেশ সীমিতকরণ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাফুফে নির্বাচনের ভোটের স্থান নির্বাহী কমিটিই ঠিক করবে পাশাপাশি পরিস্থিতি নাজুক হলে পরবর্তী করণীয় কী হবে সেটাও তারা নির্ধারণ করবে। নির্বাচন কমিশন এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করবে না।’

নির্বাচন পেছাতে গেলে অবশ্য ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা ও এশিয়া মহাদেশের নিয়ন্ত্রক এএফসির অনুমতি লাগবে। এ ব্যাপারে কয়েকদিন আগে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেছিলেন তারা ফিফাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। গতকাল তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তখন এই কর্মকর্তা বলেন, বাফুফে সভাপতি সামনে এ ব্যাপারে অবহিত করবেন।

তবে তিনি এও জানান, যে এখন পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা বাফুফে ভবনে নির্বাচন করার।  তবে প্রয়োজন হলে তারা ভেন্যু পরিবর্তন করবেন।

এদিকে বাফুফে তাদের অধিভুক্ত সংস্থাগুলোকে ৩০ মার্চের মধ্যে কাউন্সিলরের নাম পাঠাতে বলেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি সংস্থাকে নির্বাহী কমিটির সভা করে কাউন্সিলরের নাম চূড়ান্ত করতে হয়। যদিও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো এ নিয়ে সমস্যায় রয়েছে।

কারণ নির্বাহী কমিটির সভায় প্রায় ১৫-২০ জন লোকের উপস্থিতি হয়। সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ভীতি থাকে। এ ব্যাপারে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে দুই একদিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া যাবে। চলমান পরিস্থিতিতে সংস্থা চাইলে টেলিকনফারেন্স বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় সভা করতে পারে।’

উল্লেখ্য, টোকিও অলিম্পিক ছাড়া ক্রীড়া বিশ্বের প্রায় সব প্রতিযোগিতা ও লিগ বর্তমানে বন্ধ আছে। এমনকি ফিফা, উয়েফা এবং এএফসির খেলাগুলোও স্থগিত। সারা দুনিয়ায় যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে উত্কণ্ঠা সে সময় বাফুফে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা নিয়ে দৃশ্যত বাড়তি তত্পরতা দেখাচ্ছে।