জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন যাবত্ সমস্যায় রয়েছে রাস্তার আশপাশের গ্রামের মানুষ। রাজিবপুর, বারাহির চর, গাজীপাড়া, দক্ষিণ মকিমপুর, পশ্চিম চর মকিমপুর ও গাবতলীসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার গ্রামবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবত্ রাস্তায় অজস্র খানাখন্দ থাকলেও এটি মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছেন না এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এ দিকে এ সড়কে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মোতালেব মোল্লার খেয়াঘাটে এলজিইডির আওতায় নির্মিত ‘মনপুরা’ ব্রিজটির দুই পাশের রাস্তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মকিমপুর ৫নং ওয়ার্ডের নতুন বাজারের ব্রিজটিরও একই অবস্থা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে এ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত দিনে রাস্তার পিচ উঠে যাওয়ার কারণে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত হ্যালো বাইক, রিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন।
মোঃ আলী নামক একজন হ্যালো বাইক চালক জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এ রাস্তায় গাড়ি চালান। দুই বছর ধরে এ রাস্তা আর ব্রিজের বেহালদশা। ব্রিজে ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয়। কোনো কোনো সময় গাড়ি কাঁত হয়ে যায়, এতে গাড়ি ও ব্যাটারির ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ব্রিজের দুই পাশে দুটি সোলার লাইট থাকলেও তাতে তেমন আলো হয় না। এতে রাতের বেলা গাড়ির লাইটের আলোতে অনেক সময় রাস্তা ও ব্রিজের ভাঙা অংশ দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আঃ রশিদ নামে একজন মোটরসাইকেল চালকও বলেন, এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি নিজেও কয়েকবার মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রিজের ঢালে পড়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় এক ভ্যান চালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মনপুরা ব্রিজ থেকে শিববাড়ী পর্যন্ত সারা রাস্তাই ভাঙাচোরা। তাদের ভ্যান চালানোই কষ্টকর। দেড় ঘন্টার জায়গায় হেঁটে যেতে সময় লাগে তিন/চার ঘন্টা। মকিমপুর নতুন বাজারের ওমর ফারুক নামে এক যুবক বলেন, তিনি দেবেন্দ্র কলেজে পড়েন। হ্যালো বাইকে করে কলেজে যেতে হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে পনেরো/বিশ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। এলাকার আড়াইশ থেকে তিনশ’ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে দুটি ব্রিজসহ ইউনিয়নের মূল রাস্তাটির কাজের টেন্ডার পাস হয়েছে। আশা করছি জাতীয় নির্বাচনের পরেই কাজগুলো বাস্তবায়িত করতে পারবো।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরশেদ আলী বিশ্বাসও মুঠোফোনে জানান, পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের রাস্তা সংস্কারের প্রকল্পটি পাস হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর রাস্তাটির সংস্কার কাজ করা হবে।