করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে উদ্বেগের শেষ নাই। কিন্তু বিদেশ থেকে ফেরা প্রবাসীরা কোয়ারেন্টাইন বিধি মানছে না। ফলে আতঙ্কে আছে স্থানীয়রা। প্রতিদিনই সিলেট বিভাগের প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসছেন। তারা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে খোলামেলা চলাফেরা ও স্বজনদের সঙ্গে মিশছেন। আবার কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও লোকজন দল বেঁধে তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এসব কারণে সিলেট বিভাগে করোনার ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক আনিসুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলায় বিভিন্ন দেশ থেকে গত ১ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১৫ জন এসেছেন। সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে শুক্রবার পর্যন্ত এক জন মহিলা ও এক জন কিশোর আছে। ঢাকা থেকে তাদের রক্ত পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা। অন্যদিকে প্রবাস থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হলেও অনেকেই পাত্তা দিচ্ছে না।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একটি এলাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তিকে দেখতে উত্সুক মানুষ ভিড় জমানোর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ইউএনও বিশ্বজিত্ কুমার পাল বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেমেছে মোবাইল কোর্ট: হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে মোবাইল কোর্ট। সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিছবাহ উদ্দিন জানান, পাঁচটি টিম হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীরা ঠিকমতো সরকারি নির্দেশনা মানছেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে টিমের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানান সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম শামীম। এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলায় দুই হাজার ২২৮ জন প্রবাসী দেশে ফিরলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন মাত্র ৪৩ জন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত জরুরি সভায় প্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ে জরুরিভাবে প্রস্তাবনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে, বিদেশফেরতদের আনাগোনা বন্ধে সিকৃবির সব গেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।