ইতালিতে এক দিনে প্রাণ গেল আরো ৭৯৩ জনের

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যেন রীতিমতো মৃত্যুপূরিতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। শনিবার এক দিনেই সেখানে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৭৯৩ জনের। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৭ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৭৮ জনে। এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৮২৫।

গতকাল এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্তের এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে পরের অবস্থান ছিল স্পেনের । এদিন সেখানে মারা গেছে ২৮৫ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ জন। এই ভাইরাসে এদিন ইরানে মারা গেছে ১২৩ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৬ জন। আর যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৫৫ জন এবং মারা গেছে ৩২ জন। ট্রাম্পের দেশে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৮৮ জন। তবে যে চীন থেকে এই ভাইরাসের উত্পত্তি তারা নাটকীয়ভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমিয়ে এনেছে। এদিন দেশটিতে মাত্র ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৭ জন।

এদিকে, নোভেল করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার কম দেখে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা তরুণদের সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু (ডব্লিউএইচও)। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

 নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশে তরুণদের সতর্কতামূলক নানা বিধিনিষেধ না মানার খবর দেখে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সতর্কবার্তা দেন ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারো জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার কারণ হতে পারেন আপনারা, এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের।’ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বের প্রায়  সব দেশে জনসমাগম নিষিদ্ধ, বিমান চলাচল বন্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি, নাগরিকদের ঘরে আবদ্ধ রাখাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকি কম মনে করে আসা তরুণদের সেসব নির্দেশনা পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিযোগও আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গ্যাব্রিয়েসাস বলেন, ‘যদিও বয়সি মানুষদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে, তবুও তরুণদের  প্রতি আমি বলব, আপনারাও ঝুঁকিমুক্ত নন। এই ভাইরাস আপনাকেও হাসপাতালে পাঠাতে পারে, আপনাকে দুর্বল করে তুলতে পারে, এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে।’ এমনকি আক্রান্ত হয়ে কোনো তরুণ অসুস্থ না হলেও তার বিচরণে ঝুঁকিতে থাকা কারো আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কার কথাও জানান গ্যাব্রিয়েসাস। সেজন্য তরুণদের অবাধে ঘোরাফেরা এবং প্রবীণদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালিতে যে ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, তাদের গড় বয়স ৭৮ বছর। চীনে যে ৩ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, তাদের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সির হার ১ শতাংশের কম। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বয়সিদের মৃতের হার বেশি হলেও ঝুঁকি রয়েছে সব বয়সিদেরই। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইতালিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এক মাস আগে ইউরোপের এই দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এরই মধ্যে সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ভাইরাসের উত্সস্থল চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। ইরানের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চীনের বাইরে এ ভাইরাসজনিত মহামারিতে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরান তার অন্যতম। মহামারি করোনাভাইরাসে স্পেনে আরো ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৬ জন। সেখানে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজারের কাছাকাছি।