শেয়ারবাজার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করার পরও শেয়ারবাজারে পতনে ঠেকানো যায়নি। গত বৃহস্পতিবার সার্কিট ব্রেকারে বড়ো ধরনের পরিবর্তন হয়। ওইদিন লেনদেনের আধা ঘণ্টায় শেয়ারবাজারে বড়ো উত্থান হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৭১ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে গতকাল রবিবার সপ্তাহের প্রথম দিন ডিএসইতে পতন হয়েছে।
অব্যাহত দরপতনের হাত থেকে শেয়ারবাজার রক্ষা করতে গত বৃহস্পতিবার নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করা হয়। এ সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করতে গিয়ে তিন দফা পেছানো হয় লেনদেন শুরুর সময়। অবশ্য নতুন সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করে বেলা ২টায় শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। আধা ঘণ্টা চলে আড়াইটায় বন্ধ হয় লেনদেন।
নতুন সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে শেষ পাঁচ কার্যদিবসের ক্লোজিং প্রাইসের গড় মূল্য দিয়ে। এর নিচে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম নামতে পারবে না। তবে দাম বাড়ার সীমা আগের মতোই থাকবে। নতুন এ নিয়মে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হলেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের গড় দাম নির্ধারণে ভুল হয়। এ কারণে গতকাল রবিবার শেয়ারের গড় দাম নির্ধারণে কিছুটা সংশোধনী আনা হয়। এরপর লেনদেনের শুরুতেই দাম বাড়ার থেকে কমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে নিম্নমুখী হতে থাকে মূল্যসূচক। যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে তিন হাজার ৯৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ কমেছে ৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ কমেছে ২ পয়েন্টে। পতনের বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
গতকাল লেনদেনের শুরুতে কী পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে এবং কমেছে, সে তথ্য প্রকাশ হলেও মধ্যে লেনদেন হঠাত্ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দিনভর ডিএসইতে কতটি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে এবং কতটির দাম কমেছে বা বেড়েছে বা অপরিবর্তিত রয়েছে সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডিএসইতে দরপতন হলেও নতুন নিয়মে লেনদেন হওয়ায় অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট বেড়েছে। গতকাল সিএসইতে লেনদেন হয়েছে পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। নিয়ম বদলের কারণে বাজারটিতে একটি প্রতিষ্ঠানেরও দরপতন হয়নি।