বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুসরণে বাংলাদেশেও নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার দাবি উঠেছে। করোনা আতঙ্কে গণপরিবহন এড়াতে গিয়ে সাধারণ কর্মীদের অনেকেই কাজমুখী হতে পারছেন না। অন্যদিকে, আমদানি-রফতানি তথা সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটের শঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে হাতে নগদ টাকার সংকট বাড়বে এবং সংকট অব্যাহত থাকলে মানুষের ভোগ্যপণ্য কেনার ক্ষমতাও দিন দিন হ্রাস পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার প্রভাবে অর্থনীতিতে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলায় এখনি নগদ প্রণোদনার ঘোষণা জরুরি। করোনা নিয়ে যেসব সতর্ক বার্তা আসছে তাতে কোনো ধরনের খামখেয়ালিপনার সুযোগ নেই। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে পণ্যের মজুত দিয়েও কোনো লাভ হবে না, যদি সাধারণ মানুষ ভোগ্যপণ্য কিনতে না পারে।
বাংলাদেশ আক্রান্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও চিন্তায় পড়ছেন। ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধতো দূরের কথা, কর্মীদের বেতনভাতাদি দেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সবকিছু যেন ‘অচল’ হওয়ার অবস্থা। এ অবস্থায় অর্থনীতির চাকা না ঘুরলে উদ্যোক্তার যেমন টিকে থাকা কষ্টের, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও রোজগারের কোনো উপায় থাকছে না। এরই মধ্যে অনেক কর্পোরেট অফিস কর্মী ছাঁটাই কিংবা বিনা বেতনে ছুটির ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে। কোম্পানির আয় না থাকলে বেতনভাতা দেবে কোত্থেকে? বেতন না পেলে কর্মীরা এই আপত্কালীন মুহূর্তে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাবে কীভাবে? শুধু নিম্নআয়ের মানুষেরাই নয়, বেসরকারি খাতের উচ্চপদে কর্মরতরাও চাকরি ঝুঁকিতে আছেন। একইভাবে দিনমজুর থেকে শুরু করে সকর্মসংস্থানে জড়িতরা, গণপরিবহন খাত, রিকশা-অটোরিকশা চালক-মালিকসহ সবার অবস্থাই ত্রাহি। এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। কেউ হয়তো ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু করেছেন। ঋণের কিস্তিতো দিতেই পারবেন না, বরং চাল-ডাল কেনার সামর্থ্যও হারাচ্ছেন তারা। করোনা আতঙ্কে অপেক্ষাকৃত সামর্থ্যবানরা এরই মধ্যে বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করায় বাজারে পণ্যমূল্যও বেড়ে গেছে। ফলে, বেতনভোগী বেসরকারি কর্মীরা পড়ে গেছেন বিপাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে নগদ আর্থিক প্রণোদনার দাবি উঠেছে। শিল্প-বাণিজ্যের সব খাতে প্রণোদনা প্রদান না করলে মানুষ ক্রয়ক্ষমতা হারাবে। গত এক দশক ধরে দেশে যে হারে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে এবং মানুষকে আর না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না—সেই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতেই নগদ আর্থিক সুবিধা এখন সময়ের দাবি। এটি যত দ্রুত করা যাবে, ততই মঙ্গল।