চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা প্রবাসীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ৬০ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এবং ২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে আজ সোমবার জ্বর ও সর্দি নিয়ে এক প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা হাসপাতালে যান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে চাইলেও তিনি ভর্তি না হয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু তার মধ্যে করোনা লক্ষণ আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলায় গত কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৬০ জন প্রবাসীকে স্থানীয় প্রশাসন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখে। কিন্তু কোন কোন প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মেনে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠে। এছাড়া ২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপজেলার সলিমপুর আবদুল্লাঘাটা এলাকার মৃত ইয়াকুব ড্রাইভারের ছেলে কুয়েত প্রবাসী মো. শাহাজাহান হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। ঐ এলাকার মেম্বর মো. ইউসুফ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কথা শুনতে চান না বলে অভিযোগ।একইভাবে আরো অনেকে কোয়ারেন্টাইন না মেনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. নুরনবী রাশেদ জানান, সীতাকুণ্ডে আসা প্রবাসীদের খবর পেলেই তাকে হোম কোয়েরেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এ পর্যন্ত ৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া সোমবার এক প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে চাইলেও তিনি ভর্তি না হয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু তার মধ্যে করোনা লক্ষণ আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা।
আরো পড়ৃুন: মঙ্গলবার থেকে সেনা মোতায়েন
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, প্রবাসীরা এতদিন বিদেশে থাকতে পারেন কিন্তু দেশে আসার পর স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চান না। অনেকেই নিয়ম না মেনে পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের কথা না ভেবে ঘুরে বেড়ান। এমন অনেককে আমরা বাধ্য করেছি কোয়ারেন্টাইনে থাকতে। তবুও কয়েকজন কোয়ারেন্টাইন মানছেন না বলে খবর আসছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সবার নির্দেশনা মেনে চলা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, কোন রোগী যদি হাসপাতালে আসেন তাকে অবশ্যই ভর্তি করাতে হবে। নইলে তার মাধ্যমে আরো রোগ ছড়াতে পারে-এমন নিয়মেই আমরা চলছি। আর যাদের সন্দেহ হচ্ছে তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাচ্ছি আমরা।
গত শুক্রবার তিনজন ও শনিবার দুই জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কোথাও কোন রোগী এমন থাকে যার মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেক্ষেত্রে রোগীকে আসতে হবে না।আমাদেরকে খবর দিলে আমরাই লোক পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করব।
ইত্তেফাক/এএএম